জানা গেছে, বিরামপুর শহরের সুপরিচিত আইনজীবি মওলা বক্স একজন হিন্দু মেয়েকে ভালবেসে ১৯৭০ সালে বিয়ে করেন। উভয়ের গভীর বিশ্বাস ও ভালবাসার সুদৃঢ় বন্ধনে গড়ে তোলেন সুখের সংসার। তাঁদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে সবাই এলএলবি পাশ।
শহরের প্রাণকেন্দ্র ঢাকামোড়ে বিত্তশালী এ পরিবারের রয়েছে বহুতল বিশিষ্ট সুপার মার্কেট ও ফ্ল্যাট বাড়ি। ২০১১ সালে স্ত্রী জাহানারা বেগম ঝর্ণার মৃত্যুতে দিশেহারা হয়ে পড়েন মওলা বক্স। দীর্ঘ জীবনের সাথীর জন্য দোয়া করতে প্রতিদিন ফজর নামাজের পর মওলা বক্স ছুটে যান স্ত্রীর কবরের পাশে।
সেখানে নিজ হাতে স্ত্রীর পাকা কবর পরিস্কার এবং গাছের ঝরেপড়া ডালপালা, পাতা ও আগাছা পরিস্কারে মনোনিবেশ করেন। ভালবাসার অবচেতন হৃদয়ে স্ত্রীর কবরের আশপাশসহ একসময় ঝাঁটা হাতে পুরো কবরস্থানের চলাচলের রাস্তা অবলীলায় পরিচ্ছন্নতা শুরু করেন। ১৫ বছর ধরে এ কাজ করতে গিয়ে ক্লান্তির পরিবর্তে তিনি খুঁজে ফেরেন প্রশান্তি।
ব্যক্তিগত জীবনে বিরামপুর জেলা বাস্তবায়ন আন্দোলনের স্বপ্নদ্রষ্টা ও সভাপতি অ্যাডভোকেট মওলা বক্স বিরামপুরের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সরব ভুমিকা পালন করেছেন। একান্ত আলাপচারিতায় মওলা বক্স বলেন, আমার প্রয়াত স্ত্রী ধর্ম ও পরিবার পরিজন ছেড়ে এসে ঘর বেঁধেছিলেন।
তার অকৃত্তিম ভালবাসাকে স্মরণ করেই প্রতিদিন কবরস্থানে গিয়ে নিজ হাতে পরিচ্ছন্নতার কাজ করি। জীবন ছায়ান্নে দাঁড়িয়েও আবেগের কণ্ঠে বলেন, “ভালবাসা যত বড় হয়, জীবনটা তত নয়”।