1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
পঞ্চগড় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শহীদ সুমনের মরদেহ ৫ মাস পর উত্তোলন | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন

পঞ্চগড় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত শহীদ সুমনের মরদেহ ৫ মাস পর উত্তোলন

পঞ্চগড় অফিস
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৯ জানুয়ারী, ২০২৫
  • ২০২ জন দেখেছেন
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত পঞ্চগড়ের শহীদ সুমন ইসলামের (২১) মরদেহ আদালতের নির্দেশে দাফনের ৫ মাস পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। বুধবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার সাকোয়া ইউনিয়নের আমিন নগর বকশীগঞ্জ এলাকায় স্থানীয় কবরস্থান থেকে তার মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্ত শেষে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের জন্য মরদেহ দিনাজপুর অথবা রংপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। পরে শহীদ সুমনের মরদেহ একই কবরে দাফন করা হবে। এদিকে, মরদেহ উত্তোলনের সময় পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
মরদেহ উত্তোলনকালে বোদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম ফুয়াদ, বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন, আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম, সাকোয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম, শহীদ সুমনের পরিবারের সদস্যরা সহ এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ সুমন ইসলাম সাকোয়া ইউনিয়নের আমিন নগর বকশীগঞ্জ এলাকার হামিদ আলীর একমাত্র ছেলে। চার ভাইবোনের মধ্যে সুমন ছিলেন সবার ছোট।
জানা গেছে, বড় তিন বোনের বিয়ের পর বৃদ্ধ মা– বাবার একমাত্র অবলম্বন ছিলেন সুমন। বয়সের ভারে দিনমজুর বাবা কাজ করতে পারতেন না। তাই দাখিল পাস করেই সুমন পাড়ি জমিয়েছিলেন ঢাকায়। কাজ নিয়েছিলেন ইপিজেডে গার্মেন্টস কর্মী হিসেবে। এর মাঝে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলে আন্দোলনে যোগ দেয় সুমন। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিন বিকেলে ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল আরএমএসটি টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে সড়কে  গেলে সেখানে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন।
পরে ৭ আগস্ট দুপুরে ২টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু বরণ করেন। পরে ওই দিন বিকেলেই সুমনের মরদেহ খুঁজে পান স্বজনেরা। পরদিন ৮ আগস্ট গ্রামের বাড়িতে তাঁকে এনে দাফন করা হয়। মৃত্যুর প্রায় এক মাস পরে ৫ই সেপ্টেম্বর শহীদ সুমনের মা কাজলী বেগম বাদি হয়ে আশুলিয়া থানায় ৮৮ জনের নাম উল্লেখ ও ১০০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহতের বড় বোন মনিজা বেগম বলেন, গত ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় ছাত্র আন্দোলনে গুলিতে আমার ছোটভাই সুমন ইসলাম আহত হয়ে ৭ আগষ্ট মৃত্যুবরন করেন। আমার মা  কাজলী বেগম একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আমি তো আর আমার ভাইকে ফিরে পাবো না। আমরা কারো নাম দেইনি মামলায়। শুনছি রিক্সাচালকদের নাকি মামলার আসামী হিসেবে করা হচ্ছে এখন। অনেকেই ফোন করছেন। আমরা চাই কোন নিরীহ মানুষকে যেন মামলায় হয়রানি করা না হয়। যারা দোষী আমরা চাই তাদেরই শাস্তি হোক। আমার ভাইয়ের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে আবার দাফন করা হবে।
আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা আদালদের নির্দেশে মরদেহ উত্তোলন করেছি। আইনি কাজ শেষে দাফন করা হবে। মামলায় এজহার নামীয় বেশকিছু আসামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কতজন তা কাগজ দেখে বলতে হবে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। বাকী আসামীদেরও গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
বোদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দীন বলেন, গত ডিসেম্বর মাসে মামলার শুনানীতে আদালত মরদেহ উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেন। এর মাঝে মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) আমাদের কাছে আদেশের চিঠি আসে আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। এখন মরদেহের ময়নাতদন্ত সহ ফরেনসিক শেষে দাফন করা হবে।
বোদা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস.এম ফুয়াদ বলেন, আন্দোলনে শহীদ হওয়ার পর সে সময়ের একটি মামলা হয়। মঙ্গলবার আদালতের নির্দেশের একটি চিঠি পেয়ে বুধবার শহীদ সুমনের মরদেহ সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত প্রসেস করে কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )