


রংপুরের বদরগঞ্জে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের মুখ আগুনে ঝলসে দেওয়া হয়েছে। তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের চম্পাতলী কালিরহাট এলাকার একটি নির্জন ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, দুপুরের দিকে ক্ষেতের পাশে চলাচল করার সময় এলাকাবাসী মরদেহটি পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। এরপর আশপাশের মানুষজন ঘটনাস্থলে ভিড় জমায়। পুলিশ এসে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ পর্যন্ত নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৩০ থেকে ৩৫ বছর। তার পরনে ছিল প্রিন্টের শালোয়ার-কামিজ। তার মুখমণ্ডল আগুনে পোড়ানো ছিল। যেন কেউ তাকে চিনতে না পারে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আগুনে দিয়ে পোড়ানো হয়। মরদেহের ডান হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। অনেকের ধারণা, রাতে বন্য প্রাণী বা শেয়ালের দল বিচ্ছিন্ন হাতটি টেনে নিয়ে যেতে পারে। তবে স্থানীয়দের সন্দেহ, মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা যেন কঠিন হয় সে কারণে হত্যাকারীরা ইচ্ছাকৃতভাবে মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশ আগুনে ঝলসে দিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম ও কৈলাশ চন্দ্র বলেন, ‘ওই নারীকে কেউ চিনতে পারেনি। মনে হচ্ছে, হত্যাকারীরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার পর এখানে ফেলে গেছে। কেরোসিন অথবা পেট্রোল দিয়ে তার মুখমণ্ডল আগুন দিয়ে পোড়ানো হয়েছে। যাতে চেনা না যায়। তার ডান হাত বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পাওয়া গেছে। যা হয়তো শেয়ালের দল নিয়ে যেতে পারে।
বদরগঞ্জ থানার ওসি একেএম আতিকুর রহমান জানান, ‘আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছি। প্রাথমিকভাবে এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহের ময়না তদন্ত করা হবে। বিষয়টি গুরত্বের সঙ্গে তদন্ত করছি। যাতে দোষীদের চিহ্নিত করা যায়।’