


রংপুরের পীরগাছায় হিজবুত তাওহীদ নিষিদ্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার পারুল ইউনিয়নের দেউতি বাজারে হাজারো জনতার উপস্থিতিতে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও সংগঠনটি নিষিদ্ধ করার দাবি জানান।
মানববন্ধনের আগে বিক্ষোভকারীরা প্ল্যাকার্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে সমাবেশে বক্তারা বলেন, হিজবুত তাওহীদের সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার না করা হলে আন্দোলন আরও জোরদার করা হবে। এসময় উত্তেজিত জনতা স্লোগান দেন— ‘হিজবুত তাওহীদের কালো হাত, ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও।’ ‘এক, দুই, তিন, চার—হিজবুত তাওহীদ বাংলা ছাড়!’ ‘তোমার নেতা, আমার নেতা—বিশ্বনবী মুস্তাফা!’ বক্তারা বলেন, এই সংগঠন ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এবং তাদের কার্যক্রম বন্ধ করা জরুরি।
স্থানীয় আব্দুল্লাহ আল সাঈদ শামীম বলেন, হিজবুত তাওহীদ ইসলামকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করছে, কুরআন-হাদিসের অনেক কিছু তারা মানে না।
মোক্তার হোসেন বলেন, ‘এই সংগঠনের সদস্যরা আমাদের ভাইদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমরা চাই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা হোক। এর আগে গত সোমবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার পারুল ইউনিয়নের নাগদাহ সিদাম এলাকায় হিজবুত তাওহীদের ৫০ জন কর্মী একটি গোপন বৈঠক করছিলেন। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাবাসী সেখানে গিয়ে বাধা দেয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং মুহূর্তেই সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উত্তেজিত জনতা হিজবুত তাওহীদের কর্মীদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং ২০টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ফেলে। সংঘর্ষের ঘটনায় মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে ৩৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ৩০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা হয়েছে। এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পীরগাছা থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এদিকে ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।