


অবশেষে রহস্যজনক মৃত্যুর ৯ দিন পর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জয়চন্দ্র সরকার (২৩)-এর অর্ধগলিত মরদেহ নিজ গ্রাম দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলায় পৌঁছেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মরদেহটি তার গ্রামের বাড়িতে আনা হয়।
পরে ধর্মীয় আচার পালন শেষে স্থানীয় শ্মশানে তার সৎকার সম্পন্ন করা হয়। পারিবারিক সুত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশ ও ভারতের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা চিঠিপত্র বিনিময়ের পর দুই দেশের সরকারি ব্যবস্থাপনায় ভারতের পেট্রাপোল স্থলবন্দর ও বাংলাদেশের বেনাপোল বন্দর হয়ে ফ্রিজিং অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহটি দেশে আনা হয়।
মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে শোকাহত স্বজনদের পাশাপাশি শত শত গ্রামবাসী সেখানে ভিড় করেন। তবে, মরদেহের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক হওয়ায় প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে দ্রুত স্ট্রেচারে করে স্থানীয় শ্মশানঘাটে নেওয়া হয়। এর মধ্য দিয়ে জয়চন্দ্র সরকারের মৃত্যুকে ঘিরে দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটে।
নিহত জয়চন্দ্র সরকার দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার মন্মথপুর গ্রামের রঞ্জিত চন্দ্র সরকারের বড়ো ছেলে। তিনি ২০২৪ সালে স্টুডেন্ট ভিসায় ভারতে গিয়ে দিল্লীর সারদা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে ভর্তি হন। পরে, বিষয়টি পছন্দ না হওয়ায় ২০২৫ সালে কলকাতার উত্তর চব্বিশ পরগনার বারাসাতে অবস্থিত ব্রেনওয়্যার ইউনিভার্সিটিতে বি.টেক (সিএসই) বিভাগে ভর্তি হন। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
গত ৬ আগস্ট রাত প্রায় ৮টার দিকে এক অজ্ঞাত নারী ফোনে বাংলাদেশে জয়চন্দ্রের পরিবারকে জানান, তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এদিকে, নিহতের মামা মানিক সরকার ভারতে গিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনে তারা বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করছেন।