প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা যে ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিং করেন সেটির কারণে ঢাকা এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ওই ব্রিফিংয়ে হাসিনা ছাড়াও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় কথা বলেন। হাসিনা ওইদিন বলেন, ‘যদি তাকে হত্যাও করা হয়’ তবুও তিনি ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন।
দ্য ট্রিবিউন আরও বলেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার দল বিএনপি হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ হয়েছেন যে তাদের পক্ষ থেকে বার্তা দেওয়া হয়েছে, একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকেরও কেবল ফিফটি ফিফটি সম্ভাবনা থাকবে।
যা দেখা গেছে গত ১০ আগস্ট ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর প্রধান পরাগ জৈনের ঢাকা সফরে প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা বিগ্রেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) একেএম শামসুল আলমের বৈঠকের সময়।— উল্লেখ করেছে দ্য ট্রিবিউন।
ওইদিনই দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দীর্ঘ ৪৫ মিনিট বৈঠক করেন। তখন দীনেশ ত্রিবেদীকে বার্তা দেওয়া হয়— হাসিনার প্রত্যার্পণের ওপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর নির্ভর করবে।
দ্য ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈঠক শেষে দীনেশ ত্রিবেদী সাংবাদিকদের কাছে এ বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্কোন্নয়নের চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করেন।
এরপর ত্রিবেদী দিল্লিতে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বাংলাদেশের অবস্থানের কথা জানান।
সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ভারত তার পূর্বাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক করার চেষ্টা করছে। যার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে বাংলাদেশ। আর এই সম্পর্কোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী মোদি নিজে কাজ করছেন। এরমধ্যে বাংলাদেশের এমন অবস্থানে তারা বেশ অবাক হয়েছেন।
এখন দুই দেশই তাদের অবস্থানে নরম হওয়ার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে দ্য ট্রিবিউন বলেছে, দুই দেশই জানে দ্রুতপরিবর্তনশীল বিশ্বে তাদের একে অপরকে প্রয়োজন।
তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম সফরে মালয়েশিয়া ও চীনে যান। যা খুব কাছ থেকে নজরদারি করেছে ভারত।
হাসিনাকে নিয়ে কী করবে ভারত
একটি কূটনৈতিক সূত্র দ্য ট্রিবিউনকে বলেছেন, হাসিনাকে তারা ত্যাগ করতে পারবেন না। কারণ হাসিনা ভারতের বিশ্বস্ত পুরোনো বন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের কন্যা। আর বিশেষভাবে হাসিনা তার জীবনে দ্বিতীয়বারের মতো ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন, এ কারণে ভারত তাকে ছেড়ে দেবে না।
তবে আরেকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, হাসিনার প্রেস ব্রিফিং দুই দেশের মধ্যে উন্নত হতে চলা সম্পর্কে বেশ খারাপ প্রভাব ফেলেছে। সূত্রটি বলেছে, “পূর্ব সীমান্তে ভারতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাটা অত্যন্ত জরুরি, আর কেবল একটি বন্ধুত্বপূর্ণ বাংলাদেশই তা রক্ষা করতে পারবে।”





















