


কয়েকদিনের অতিবৃষ্টিতে রৌমারী উপজেলায় ৭০ হেক্টর জমরি ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ৫০০ কৃষকপরিবারের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা।
সোমবার দুপুরে সজেমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার সদর ইউনিয়নের মাদারটিলা, কান্দাপাড়া, ইজলামারী, রতনপুর, সতিরপাড়, বামনেরচর, নতুনবন্দর, দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের খেতারচর, উজানঝগড়ারচর, ছোটধনলা, ধনতোলা, হরিণধরা, তেকানিগ্রাম, বন্দবেড় ইউনিয়নের উত্তরটাপুরচর, বন্দবেড়, খঞ্জনমারা, ফলুয়ারচর, কুটিরচর, বাইটকামারী, যাদুরচর ইউনিয়নের ধনারচর, পাহাড়তলী, খেওয়ারচর, বকবান্দা, কোমড়ভাঙ্গী, জামাইপাড়া, ইউনিয়নের খেদাইমারী, সুখেরবাতি, ঘুঘুমারী, চরকাজাইকাটা, শান্তিরচর, সোনাপুর, মশালেরচর, চর ইটালুকান্দা, শৌলমারী ইউনিয়নের শৌলমারী, বোয়ালমারী, মাঝিপাড়া, টালুয়ারচর, বড়াইকান্দি, ফকিরপাড়া ও বোয়ালমারী এলাকার ৭০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।
যাদুরচর ইউনিয়নের খেওয়ারচর এলাকার স্থানীয় ইউপি ওয়ার্ড সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি হওয়ায় তার চারবিঘা জমিতে লাগানো বোরো ধান তলিয়ে গেছে। সেই জমির ধান কাটার উপযোগী হলেও কামলা সংকটের কারণে কাটা যাচ্ছে না। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।
একই ইউনিয়নের বকবান্ধা এলাকার সিরাজুল ইসলাম বলেন, তিনি আট বিঘা জমিতে বোরোধান লাগিয়েছেন। কিন্তু তার সব ধান তলিয়ে গেছে।
রৌমারী সদর ইউনিয়নের নতুনবন্দর এলাকার নুরুন্নবী নামের এক কৃষক বলেন, তার দেড় বিঘার বোরো ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ওই কৃষক।
যাদুরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, তার কয়েকটি এলাকার জমির ধান তলিয়ে গেছে। এভাবে আর কয়েকদিন টানা বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরও কয়েকটি এলাকার জমির ফসল তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে কৃষকরা।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় রৌমারী উপজেলা কৃষিকর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি বলেন, কয়েকদিনে ঝড়োহাওয়া ও অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের৭০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর মধ্যে তলিয়ে রয়েছে৩০ হেক্টর বোরো ধান, ১০ হেক্টর পাট, তিল ১০ হেক্টর ও ২০ হেক্টর জমির শাকসবজি। এতে ৫০০ কৃষক পরিবারের ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টি হলে পাহাড়ি ঢল নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তখন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানান ওই কর্মকর্তা।