


দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির পাশ্ববর্তী গ্রামে পরিত্যক্ত এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (ডেটোনেটর) বিস্ফোরণে ইলিয়াস আলী (১০) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রের ডান হাতের কব্জি উড়ে গেছে। সে স্থানীয় চৌহাটি ছালেফিয়া মাদ্রাসার নাজরা বিভাগের শিক্ষার্থী। ইলিয়াস হোসেন পার্বতীপুর উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের চৌহাটি গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলামের ছেলে। আজ মঙ্গলবার (৭জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে খনির পাশ্ববর্তী চৌহাটি গ্রামে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে সাড়ে দিকে ইলিয়াস হোসেন কয়লা খনি এলাকার ডাম্পিং এলাকা থেকে সে একটি ধাতব বস্তু পেয়ে কৌতূহলবশত তা নাড়া-চাড়া করে বাড়িতে নিয়ে গিয়ে মোবাইলের নষ্ট ব্যাটারির সাথে সংযোগ দিলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে তার ডান হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে ক্ষত হয়। বেলা ১২টায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে বেলা ১টার দিকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা যায়, কয়লা খনির প্রাচীর ঘেঁষে তার কাঁটা দিয়ে ঘেরা খনির ডাম্পিং এরিয়া। এখানে খনির বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলা হয়। এসব বর্জ্যর সাথে পাওয়া মাঝে মাঝে মেলে এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস। পাশের গ্রাম চৌহাটির অনেকেই এই ডাম্পিং পয়েন্ট থেকে কয়লা সংগ্রহ করতে গিয়ে ওইসব এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস পেয়ে থাকে।
তবে, এগুলো ডাম্পিং পয়েন্ট থেকেই কোন না কোন ভাবে ধাতব বস্তু হিসেবে গ্রামবাসী সংগ্রহ করেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান বলেন, এগুলো ডেটোনেটর। খনির অভ্যান্তরে বা ভূগর্ভে যেসব স্থানে মেশিন দিয়ে কয়লা কাটা সম্ভব হয় না। সেই সব স্থানে এসব ডেটোনেটর স্থাপন করে বিস্ফোরন ঘটিয়ে কয়লা সংগ্রহ করা হয়। চৌহাটি গ্রামে বাসিন্দারা জানান, খনি এলাকার পুরনো বিস্ফোরক উপাদান ও পরিত্যক্ত দ্রব্যাদি অপসারণে প্রশাসনের আরও তৎপরতা দরকার, যেন এমন দুর্ঘটনা আর না ঘটে। সেদিকে দৃস্টি দেয়া প্রয়োজন।
বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইন অপারেশন) খান মো. জাফর সাদিক জানান, ডাম্পি এলাকায় কোন ডোটোনেটর রাখা হয় না। ডেটোনেটর রাখা হয় ৭ফিট মাটির নীচে। প্রায় ৫০ টি ডেটোনেটর দিয়ে ব্লাস্টিং বা পাথর ভাঙা হয়। এরমধ্যে মিস ফায়ার করতে পারে। একটি ডেটোনেটর ৮০ মিলি ফায়ার হলো কি বোঝা যায় না। ডেটোনেটর কারেন্ট সংযোগ না হলে বিস্ফোরণ হবে না। কিন্তু ডাম্পিং থেকে পাওয়া ডেটোনেটর ওই শিশু মোবাইল ব্যাটারি সংযোগ দিলে এ ঘটনা ঘটে। এগুলো খুবই স্পর্শ কাতর। এগুলো কোনটি অকেজো এবং কোনটি তাজা তা সাধারণ ভাবে কেউ বুঝতে পারার কথা নয়।
আহত পরিবারে খনি কর্তৃপক্ষ সহোযোগিতা করবে। বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখার জন্য ইতোমধ্যে ৪ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন
এঘটনায় বিকেলে উপ-মহাব্যবস্থাপক (মাইন প্লানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোঃ রাজীউন নবী কে প্রধান করে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অপর সদস্যরা হলেন, ব্যবস্থাপক (মাইন ডেভেলপমেন্ট) মোঃ আশরাফুল আলম, ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) সৈয়দ ইমাম হাসান ও ব্যবস্থাপক (ডিজাইন, কন্সট্রাকশন এন্ড মেইটেন্যান্স) জাহিদুল ইসলাম। কমিটিতে দ্রত সময়ে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।