
রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় একটি কোচিং সেন্টারের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ৯ বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগাছা থানার ওসি একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম। এর আগে বুধবার রাতে মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সাগর (৩৩) ওই এলাকার মফিজুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত রমজান মাসে অভিযুক্ত দেলোয়ারের স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকার সুযোগে এই নারকীয় তাণ্ডব শুরু হয়। কোচিং ছুটির পর ওই শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে আটকে রাখতেন দেলোয়ার। এরপর গলায় চাকু ধরে হত্যার হুমকি দিয়ে মুখ চেপে ধরে চলতো দিনের পর দিন ধর্ষণ।
গত রবিবার বিকাল ৪টার সময় কোচিং ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে ডেকে নেন দেলোয়ার। সেখানে পুনরায় ধর্ষণের উদ্দেশ্যে স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত ও পাশবিকতা শুরু করলে শিশুটির আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় দেলোয়ার। স্থানীয়রা ঘরে ঢুকে শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
উদ্ধারের পর শিশুটি জানায়, পাশবিকতা চালানোর সময় অভিযুক্ত দেলোয়ার নানা কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিল। যাতে কোনো চিহ্ন না থাকে। দিনের পর দিন এই ভয়াবহ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে শিশুটি নির্বাক হয়ে পড়েছিল।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেলোয়ার হোসেন সাগর একজন পেশাদার অপরাধী। গত ২০২২ সালে কোনাবাড়ী এলাকায় ‘মা শিক্ষা নিকেতন কোচিং সেন্টার’ পরিচালনার সময়, নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে র্যাবের হাতে গ্রেফতার হয়েছিল। ৬ মাস জেল খেটে জামিনে বের হয়ে ২০২৩ সালের দিকে এলাকায় ফিরে এসে পুনরায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আড়ালে সে এই ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, ইতিপূর্বেও সে এলাকায় একাধিকবার এমন ঘটনা ঘটিয়েছে।
এই ঘটনায় এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ। তারা অবিলম্বে ধর্ষকের ফাঁসি দাবি করেছেন। স্থানীয় শিক্ষকরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। দ্রুত বিচার না হলে তারা রাজপথে কঠোর আন্দোলনে নামবেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম, ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল বলেন, দেলোয়ার এই এলাকায় শিক্ষার আড়ালে বিষ ছড়াচ্ছিল। আমরা তাকে সামাজিকভাবে বয়কট করেছি এবং প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি, তদন্তে যেন কোনো ফাঁক না থাকে। অপরাধী যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সুজন বলেন,
‘মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’
Related