


রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলে বিমান দুর্ঘটনায় শিশুদের বাচিয়ে জীবন আত্নদানকারী মাহেরিনের গ্রামে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নীলফামারীর জলঢাকা পৌর এলাকার ৪নং ওয়ার্ড বগুলাগাড়ী চৌধুরীপাড়ায় এখন তার পরিবার, স্বজন শুভানুধ্যায়ী ও শিক্ষার্থীদের মাঝে নীরবতা বইছে।
মঙ্গলবার সকালে বগুলাগাড়ী চৌধুরী পাড়া গেলে দেখা যায়, বগুলাগাড়ী স্কুল এন্ড কলেজে ঝুলছে শোকের ব্যানার। তার রুহের আত্নার মাগফেরাত কামনায় দোয়া,পতাকা অর্ধনমিত, ক্লাশ বন্ধ সহ সকল শিক্ষক শিক্ষার্থী কালো ব্যাচ ধারন করেছে।
বিকাল সাড়ে তিনটায় লাশবাহী গাড়ীটি বগুলাগাড়ী এলাকায় প্রবেশ করতেই এলাকার মানুষের ঢল নামে শিক্ষার্থীদের জন্য জীবন আত্নত্যাগকারী মাহেরিনকে এক নজর দেখার জন্য। পরে বগুলাগাড়ী স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। বিকাল পৌনে চারটায় তাকে বাবা মায়ের কবরের পাশে চিরনিন্দ্রায় শায়িত করা হয়।
তার পারিবারিক সূত্র জানায়, মোহিতুর রহমান চৌধুরী ও ছাবেরা চৌধুরী দম্পত্তির বড় সন্তান মাহেরিন চৌধুরী । তারা ২ভাই ও বোন। তার ২০০৮ সালে শরিয়তপুর নড়িয়া উপজেলার চর আত্রাই গ্রামে বিয়ে হয়। তিনি ২০০২ সালে মাইলস্টোন স্কুলে ইংরেজি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তার স্বামী মনছুর হেলাল প্যারাডাইস গ্রুপের জিএম হিসেবে কর্মরত আছেন। তার ২জন ছেলে সন্তান আছেন। বড় ছেলে আইয়ান রশিদ মিয়াজ ‘ও’ লেভেল দিয়েছে। আর ছোট ছেলে আদিল রশিদ মাহিদ ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দিবে। মাহেরিনের বাবা মোহিতুর রহমান চৌধুরী ২৮ডিসেম্বর ২০১৪ সালে ও মা ছাবেরা চৌধুরী ৩০জুন ২০২০ সালে মৃত্যুবরন করেন।
মাহেরিনের জন্ম ৬জুন ১৯৭৯ সাল । তিনি শাহিন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি ১৯৯৫ ও এইচএসসি ১৯৯৭ সালে পাশ করেন। এরপর তিতুমীর কলেজ থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করেন।
মাহেরিনের বাড়ীর কেয়ার টেকার আব্দুস ছামাদ জানান, প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খালা ছিলেন রওশন আরা। রওশন আরার ছেলে মোহিতুর রহমান চৌধুরী। তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়ার খালাত ভাই। আর মোহিতুর রহমান চৌধুরীর মেয়েই হলেন মাহেরিন। তাই তিনি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ভাতিজি।
বগুলাগাড়ী স্কুল এন্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষ মহুবর রহমান জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠানে তিনি চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল এ্যাডহক কমিটির সভাপতি হন। তিনি ২২জুন প্রতিষ্ঠানের মাঠে এসে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দিক নির্দেশনা দেন। আমাদের এখানে ২৮জুলাই অর্ধ বার্ষিকী পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ ও অভিভাবকদের নিয়ে মতবিনিময় সভার আয়োজন ছিল। সে বিষয়ে গতকাল দুপুর ১২টায় তার সাথে আমার সর্বশেষ কথা হয়।
উল্লেখ্য সোমবার(২১ জুলাই) রাজধানীর মাইলস্টোন স্কুলে বিমান বিধ্বস্তে শিক্ষার্থীদের বাচাতে গিয়ে নিজের জীবন আত্নদান করেন ওই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মাহেরিন চৌধুরী।