1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ছাগল পালনে ভাগ্য বদল রেনু বালার | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৪:৫৩ পূর্বাহ্ন

ছাগল পালনে ভাগ্য বদল রেনু বালার

সাইফুল ইসলাম, কাউনিয়া (রংপুর)
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫
  • ৩৫১ জন দেখেছেন

‎রংপুর জেলার কাউনিয়া উপজেলার তিস্তা নদীর পাড় ঘেঁষা পাঞ্জর ভাঙা গ্রামে মনোরঞ্জন অধিকারীর স্ত্রী রেনু বালার বাড়ি। একসময় সংসারের অভাব-অনটনে হাল ছাড়তে বসেছিলেন তিনি। স্বামী স্বল্প আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। সন্তানদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

কিন্তু আজ তিনি দারিদ্র্যের শৃঙ্খল ভেঙে স্বাবলম্বী নারী হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন। আর এই সাফল্যের মূল কারণ ছাগল পালন। তিনি ছাগল পালনে সফলতা অর্জন করায় ২০১৬ সালে জাতীয় কৃষি ব্রোঞ্জ পদক লাভ করেন। ‎রেনু বালা বলেন দরিদ্র সংসারে জীবিকার তাগিদে এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ২০১২ সালে ৪ হাজার টাকায় দু’টি ছাগল কিনে লালনপালন শুরু করি। এক বছরের মধ্যে ছাগল দু’টি ৪টি ‎রেনুবালা জানান, কয়েক বছর আগে স্থানীয় এক আত্মীয়ের কাছ থেকে ধার করে মাত্র দুটি ছাগল কিনে শুরু করেছিলেন। শুরুতে অনেক কষ্ট হয়েছিল—খাদ্য জোগাড়, চিকিৎসা, পরিচর্যা সবকিছুই করতে হতো সীমিত সামর্থ্যের মধ্যে।

কিন্তু দৃঢ় মনোবল আর পরিশ্রমের ফলে সেই দুটি ছাগল থেকে ধীরে ধীরে তার খামার বড় হতে থাকে।এখন খামারে চার প্রজাতির ৫২ টি ছাগলের পাশাপাশি এখন তার খামারে ৮ টি গরু রয়েছে তার মধ্যে দুটো গাভি দুধ দেওয়া শুরু করেছে। তার ৮টি গরুর মূল্য প্রায় ৮ লক্ষ টাকা হবে।‎তিনি আরোও বলেন দরিদ্র সংসারে জীবিকার তাগিদে এনজিও থেকে ক্ষুদ্র ঋণ নিয়ে ২০১২ সালে ৪ হাজার টাকায় দু’টি ছাগল কিনে লালনপালন শুরু করি। এক বছরের মধ্যে ছাগল দু’টি ৪টি বাচ্চা দেয়। ওই ছাগলগুলো বিক্রি করে তা থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় হয়। এরপর সিদ্ধান্ত নেই ছাগলের খামার করার।

এরপর উপজেলা প্রাণী সম্পদ অধিদফতরের পরামর্শক্রমে যমুনা পাড়ি, তোজাপাড়ি, হরিয়ান ও ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল কিনে ম্যাচিং পদ্ধতিতে খামার গড়ে তোলি তবে এ কাজে আমার স্বামী ও পরিবারের লোকজনও সহযোগিতা করে। বাড়ির পাশের পতিত জায়গায় আবাদ করেছেন হাইড্রোপ্রোনিক ও নেপিয়ার ঘাস যা ছাগলের জন্য উৎকৃষ্টমানের খাবার সেই ঘাস দিয়েই ছাগলের খাবারের বেশিরভাগ চাহিদা মেটাচ্ছেন। এছাড়াও গ্রাম থেকে কাঁঠাল পাতা সংগ্রহ করে খওয়ানো হয়
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রেনুবালা বলেন, “আমি চাই খামারটা আরও বড় করতে। যদি সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সহায়তা পাই, তাহলে আরও অনেক ছাগল পালন করে আমার পরিবারের পাশাপাশি এলাকার মানুষকেও কাজ দেওয়ার সুযোগ হবে।

‎‎স্থানীয়রা জানান, রেনুবালা এখন গ্রামের নারীদের কাছে এক অনুপ্রেরণার নাম। তার মতো সাধারণ গৃহিণী আজ আত্মনির্ভরতার উদাহরণ হয়ে উঠেছেন। অনেক নারী এখন ছাগল পালনের উদ্যোগ নিচ্ছেন তারা। ‎‎খামার দেখতে আসা ফারহানা ইয়াছিন বলেন, ছাগলের খামার গড়ে স্বাবলম্বী হওয়ার খবর শুনে রেনু বালার খামারটি দেখতে এসেছি। এছাড়াও বাজারে ছাগলের চাহিদা বেশ রয়েছে ও দাম ভালো রয়েছে তাই ছাগল পালনে ভালো লাভবান হওয়ায় তার কাছ থেকে খামারের বিভিন্ন পরামর্শ নিলাম আমিও তার মতো ছাগলের খামার গড়ে তুলবো। ‎কাউনিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. এ আর এম আল মামুন বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে ছাগল পালন একটি কার্যকর উপায়।

সামান্য পুঁজি ও সঠিক পরিচর্যা থাকলেই পরিবারগুলো আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। তারা জানান, রেনুবালার মতো নারীদের সঠিক প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া গেলে পুরো এলাকায় এর প্রভাব পড়বে।আমরা নিয়মিত তার ওই ছাগলের খামার পরিদর্শনের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে আসছি।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )