1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
কাউনিয়ায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার আশায় বুক বেঁধেছে নদীপাড়ের মানুষ | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন

কাউনিয়ায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার আশায় বুক বেঁধেছে নদীপাড়ের মানুষ

কাউনিয়া (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : শুক্রবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৩৩৮ জন দেখেছেন
উত্তরাঞ্চলের মানুষরা বছরের পর বছর নদীর ভাঙন-বন্যার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকলেও, এখন তারা তিস্তা মহাপরিকল্পনায় নতুন আশা দেখছেন। এই প্রকল্প তাদের জন্য যেন অন্ধকারে আলো দেখার মতো এক দিশারী।
কেননা রংপুরের কাউনিয়ার তিস্তা তীরবর্তী গ্রামগুলোতে গেলে চোখে পড়ে নদীর ভাঙনের চিত্র। কোথাও নতুন ভাঙন, কোথাও আবার ভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের ঝুপড়ি ঘর। উত্তরেরজীবনসীমারেখা খ্যাত তিস্তা নদী আজ নদীপাড়ের মানুষের কাছে আতঙ্কের প্রতীক।
অন্যদিকে ভারতের গজলডোবায় তিস্তার উজানে বাঁধ নির্মাণ ও পানির ন্যায্য হিস্যা না দেওয়ায় নদী ক্রমেই শুকিয়ে যাচ্ছে। বর্ষায় হঠাৎ অতিরিক্ত পানি এসে ধ্বংসের স্রোত বয়ে আনে, শীতে শুকিয়ে যায় নদী, রয়ে যায় শুধু ধু-ধু বালুচর।
তিস্তা শুধু একটি নদীর নাম নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন, অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও আবেগের সঙ্গে জড়িত। বর্ষা এলে নদী মুহূর্তে শত শত পরিবার ভিটেমাটি হারায়, কৃষকের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়, জীবন ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।
বালাপড়া ইউনিয়নের গদাই এলাকার  বৃদ্ধ মমিন উদ্দিন বলেন “আমার দুই বিঘা জমি, পাকা ঘর, গাছপালা সব ছিল। নদী এক রাতে সব নিয়ে গেল। এখন ছেলে-মেয়েদের নিয়ে মানুষের জমিতে ভাগচাষ করি।”
তরুণ কৃষক রুবেল মিয়া বলেন
“আমার বাবার একসময় জমির প্রাচুর্য ছিল। আজ আমি দিনমজুরি করি। তিস্তা আমাদের জীবন কেড়ে নিয়েছে।”
ঢুষমাড়া চড়  এলাকার  গৃহিণী সালেহা বেগমের আশা—“আমরা চাই শুধু ভাঙন থামুক, ঘর-বাড়ি ঠিক থাকুক। শুনছি মহাপরিকল্পনায় চাকরি হবে, পর্যটন বাড়বে। যদি সত্যি হয়, আমাদের ভাগ্য বদলাবে।”
সরকারের ঘোষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা-তে নদী ড্রেজিং, আধুনিক বাঁধ নির্মাণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন ও মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ, পর্যটন অবকাঠামো উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু ভাঙন রোধ নয়, উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতিতেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
 সুত্রে যানা গেছে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার এই মহাপরিকল্পনা বাংলাদেশ ও চীন সরকারের যৌথ বিনিয়োগে বাস্তবায়িত হবে। ১০ বছর মেয়াদি প্রকল্পের কাজ শুরু হবে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে। ইতোমধ্যে চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল মাঠপর্যায়ে জরিপ শুরু করেছে।
রংপুর-৪ আসনের জনপ্রতিনিধিরা বলেন
“তিস্তা মহাপরিকল্পনা কেবল একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন বাঁচানোর সংগ্রাম।”
কাউনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিদুল হক জানান—“সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্তরিক। কাজ এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। বাস্তবায়ন হলে কাউনিয়াসহ পুরো তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )