


বাগেরহাটের সাংবাদিক এসএম হায়াত উদ্দিন হত্যাকাণ্ড ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন। হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে, যাদের অধিকাংশই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে। এদের মধ্যেই উঠে এসেছে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপের নাম সরাসরি আসামি না হলেও তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীরা হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছেন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। গত শুক্রবার প্রতিপক্ষের হামলায় নির্মমভাবে খুন হন সাংবাদিক হায়াত।
তার মা হাসিনা বেগম বাদী হয়ে শনিবার রাতে ১৯ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। এতে ওমর আলী মুন্না, ইসরাইল মোল্লা, রতন, রেজাউলসহ ৭ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে। বাকি ১০-১২ জন অজ্ঞাত। স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল সূত্র বলছে, বহিষ্কৃত যুবদল নেতা ওমর আলী মুন্না আলাপের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ছিলেন। তাকে ২০২৪ সালের আগস্টে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়, কিন্তু তবুও তিনি আলাপের আশ্রয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছিলেন।
তার নিয়ন্ত্রণে ছিল একাধিক যুবদল কর্মী, যারা রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থনৈতিক আধিপত্য ধরে রাখতে অস্ত্র ও মাদক ব্যাবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপি নেতারা বলেন— আলাপ সাহেবের প্রশ্রয়েই মুন্না ও তার গ্রুপ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করেছে এ চক্রটি। এখন হত্যাকাণ্ডের পর তারা সবাই গা ঢাকা দিয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দেখা যায়, সাংবাদিক হায়াতকে পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হয়। তার হাত-পা লক্ষ্য করে একের পর এক কোপ দেয় দুর্বৃত্তরা। স্থানীয়রা বলছেন, হায়াত দীর্ঘদিন ধরে দলীয় অনিয়ম ও আধিপত্য নিয়ে সরব ছিলেন—যা আলাপ-মুন্না গ্রুপের পছন্দ হয়নি।
জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খাদেম নিয়ামুল নাসির আলাপ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন— হায়াত আমার পরিচিত মানুষ ছিলেন, খুব ভালো মানুষ। তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধ বা সম্পর্কের টানাপড়েন ছিল না। হত্যার ঘটনায় আমি গভীরভাবে শোকাহত। তবে স্থানীয়রা বলছেন, তার ঘনিষ্ঠ অনুসারীদের অনেকেই এখন পলাতক। রাজনৈতিক মহলে তাই প্রশ্ন উঠেছে— ঘটনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মহল জড়িত হলে নেতা কি দায় এড়াতে পারেন? বাগেরহাট সদর থানার ওসি জানান, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত উভয় দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।