


দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের ভোটগাছ গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান সুজন (৪৫)। এবার ২৮ বিঘা জমিতে রোপা আমন লাগিয়েছেন। ইঁদুর আক্রমণে থোড় আসা স্বর্ণা জাতের প্রায় ৪ বিঘা জমি নষ্ট হয়ে গেছে। এখানকার দায়িত্বরত সহকারী কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ পেলে হয়তো এতো ক্ষতির সম্মুখীন হতাম না। কৃষক সুজন অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের রামপুর ইউনিয়নে উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ চেয়ে তাকে কাছে কিংবা মাঠে পাওয়া যায় না। অনেক সময় ফোন দিয়ে তা সহযোগিতা পাইনি। রোপা আমন জমিতে থোড় এসেছে গাছে। আবার আগাম জাতের ধান থেকে শীষ বের হয়েছে। ইঁদুর আক্রমণ করছে রোপা আমন জমিতে, কৃষকরা জমিতে গইল (ফাঁকা) করেও ইঁদুর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, এ বছর ইঁদুর ধানের গোড়া থেকে কেটে দিচ্ছে। শীষ কেটে দেয়ায় আর শীষ বের হতে পারবে না।
রামপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক আবু ছালেম বলেন, জমিতে শেষ সময়ে হঠাৎ ধানের শীষের গোড়া কেটে দিচ্ছে ইঁদুর। জমিতে গইল করে ইঁদুর আক্রমণ রক্ষা পাওয়া যাচ্ছে না। আমার ৮ কাটা জমিতে ইঁদুর বিনষ্ট করেছে। ইঁদুর আক্রমণ কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক স্প্রে দিয়েও কাজ হচ্ছে না।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলছে, এখন পর্যন্ত কোন কৃষক মৌখিক বা লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি। ইঁদুর দমনে ন্যাচারাল গুঁইসাপ ও বিজি কাজ করে থাকে। যাতে কৃষকরা তাদের না মারে সে জন্য কৃষি উপ-সহকারীগণ মাঠে কাজ করছে।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রামপুর ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার রায় বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তিনি করছেন, কারণ আমি আজকেও ওই এলাকায় ছিলাম। আমাকে তিনি কখনও ফোন দেয়নি। তবে, মঙ্গলবার ও বুধবার সরকারি প্রণোদনার তালিকা করা হচ্ছে। সেখানে এবার তার নাম রাখবো। এলাকায় ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। ইঁদুরের আক্রমণ থেকে কৃষকদের প্রতিনিয়ত আমরা পরামর্শ, লিফলেট বিতরণ করছি।
পার্বতীপুর ১০ ইউনিয়ন ও এক পৌরসভায় ৮৬ হাজার ৬০১ কৃষক রয়েছে। এবার উপজেলায় ২৮ হাজার ৮শ’ ৮২ হেক্টর জমিতে রোপা আমনের চাষ হয়েছে। পৌরসভা, পলাশবাড়ী, রামপুর, মোস্তফাপুর, চন্ডিপুর, হাবড়া, হামিদপুর, মন্মথপুর, বেলাইচন্ডিসহ এলাকার রোপা আমন মাঠ সরেজমিনে দেখা গেছে, রোপা আমন জমিতে গাছে থোড় এসেছে। আবার কিছু আগাম জাতের ধান থেকে শীষ আসছে। উপজেলার বেলাইচন্ডি ইউনিয়নের ঝাপের ডাঙা এলাকার কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এখন ধানের গাছ থোড় এসেছে। এখনো শীষ বের হয়নি। ৪/৫ বার বালাইনাশক ছেটানো হয়েছে, তারপরও কাজ হচ্ছে না। ইঁদুর আক্রমণে ১০ কাটা জমি বিনষ্ট হয়েছে। হামিদপুর ইউনিয়নের কালুপাড়া গ্রামের বর্গাচাষি কৃষক ছোলেমান আলী বলেন, রোপা আমন নিয়ে বড় চিন্তায় আছি আমরা যারা বর্গা চাষি তাদের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। কেবল মাত্র ধানের থোড় বের হচ্ছে। এ মুহূর্তে ইঁদুরের আক্রমণ দেখা দিয়েছে।
এ ব্যাপারে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজিব হুসাইন বলেন, কৃষকদের মাঠ পর্যায়ে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ইঁদুর মারার যে ফাঁদগুলো রয়েছে সেগুলো ব্যবহারের জন্য আমরা কৃষককে বলছি। সমন্বিত উদ্যোগ একই সাথে যে সব স্থানে বা ঘরে-বাইরে ইঁদুর মারার কার্যক্রম হাতে নেয় কৃষক। এবিষয়ে কৃষকদের আমরা সজাগ করার চেষ্টা করছি।