


১০দিন ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে দিনাজপুরে পার্বতীপুর অবস্থিত বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদনে যেতে পারছে না গুরুত্বপূর্ণ এ বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করেও উত্তরাঞ্চলে চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। জাতীয় গ্রিড থেকেও মিলছে না চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ। কেন্দ্রটির ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি ইউনিট থাকলেও বর্তমানে সবকটি বন্ধ।
বন্ধ হয়ে যাওয়া তৃতীয় ইউনিটের ২৭৫ মেগাওয়াট থেকে ১৪০-১৫০ মেগাওয়াট ও প্রথম ইউনিটের ১২৫ মেগাওয়াটের ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। অপরদিকে, দ্বিতীয় ইউনিট ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে দীর্ঘদিন ৪ বছর ১১ মাস ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও দিনাজপুরসহ আশপাশের ৮টি জেলায় লোডশেডিং বেড়ে গেছে চরমভাবে। তাপবিদ্যুৎ উৎপাদনে ত্রুটি দেখা দিলে ভোগান্তিতে পড়ে পার্বতীপুর পল্লীবিদু্যুতের ৮০ হাজার গ্রাহক। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি প্রতিদিন ৩ হাজার মে.টন কয়লা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করছে। ফলে কয়লা মজুদের কারণে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কোল ইয়ার্ডে ৪ লাখ ৭০ হাজার মে.টন কয়লা মজুদ রয়েছে।
কয়লার স্তূপ ছাড়িয়ে যাচ্ছে নিরাপদ সীমা, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়িয়ে দিয়েছে। ২০০৬ সালে উৎপাদন শুরু করা এই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে উত্তোলিত কয়লার ওপর নির্ভরশীল। প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে এবং তৃতীয় ইউনিটের ২৭৫ মেগাওয়াট। তবে, যাত্রার শুরু থেকেই যান্ত্রিক ত্রুটি ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে কখনোই তিনটি ইউনিট এক সাথে চালু রাখা সম্ভব হয়নি। দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে সম্পূর্ণ রুপে অচল। দীর্ঘ সময় সচল না থাকায় এর যন্ত্রপাতিও অকেজো হয়ে পড়ছে। গত ১৯ অক্টোবর রবিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বয়লারের পাইট ফেটে বন্ধ হয়ে যায় প্রথম ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম। প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতো। এরআগে, গত ১৬ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে গভর্নর ভালভ স্টিম সেন্সরের ত্রুটির কারণে ৩য় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। সেখান থেকেই জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হতো প্রতিদিন ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এই ইউনিট দুটি সচল রাখতে প্রতিদিন কয়লার প্রয়োজন ২ হাজার ৬শ’ মেট্রিক টন কয়লা।
তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের এক প্রকৌশলী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, কখনো যান্ত্রিক ত্রুটি, কখনো রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ভাবেই। কয়লা খনির একটি সুত্র জানিয়েছে, উৎপাদিত কয়লার ব্যবহার কমে যাওয়ায় কয়লার মজুদ বেড়ে গিয়ে উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কোল ইয়ার্ডের ধারণক্ষমতা ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিকটন। কিন্তু বর্তমানে কোল ইয়ার্ডে মজুত রয়েছে ৪ লাখ ৭০ মেট্রিকটন কয়লা। দিনাজপুর পল্লিবিদ্যুৎ সমিতি-২ পার্বতীপুর জোনাল কার্যালয়ে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. জহরুল হক বলেন, ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিনের বিদ্যুৎ চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় সরবরাহে ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং হচ্ছে।
এতে গ্রাহকরা দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুতের ভোল্টেজ স্থিতিশীল রাখাও কষ্ট সাধ্য। বিদ্যুৎ পাচ্ছি ৬-৭ মেগাওয়াট।বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং) খান মো. জাফর সাদিক বলেন, বছরে খনি থেকে ৮ লাখ মে. টন কয়লা উত্তোলন হয়ে থাকে। যাহ পুরোটাই তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহ করা হয়। কয়লা মজুদের পরিমাণ বেড়েই চলেছে। খনির কোল ইয়ার্ডে কয়লার স্তূপের উচ্চতা ২০ থেকে ২৫ মিটারে পৌঁছেছে। এব্যাপারে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ইউনিট দুটির সচলে চীনা বিশেষজ্ঞদল কাজ করছে। আশা করছি শীঘ্রই উৎপাদনে ফিরবে।