1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
‘ইমরান খানের জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ নেই’: কাসিম | দৈনিক সকালের বাণী
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ পূর্বাহ্ন

‘ইমরান খানের জীবিত থাকার কোনো প্রমাণ নেই’: কাসিম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৭৯ জন দেখেছেন

পাকিস্তানের কারাবন্দি সাববেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ অবস্থায় রাখা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন তার ছোট ছেলে কাসিম খান। পাকিস্তানের কারাবন্দী প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মৃত্যু নিয়ে বেশ কয়েকদিন ধরেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও জল্পনা চলছে। এমকি একটি আফগান সংবাদমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তাকে আদিয়ালা কারাগারে হত্যা করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সরকারের কাছে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর ছেলে কাসিম খান তার বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্সে এক বিবৃতিতে কাসিম খান বলেছেন, ‘আমার বাবা (ইমরান খান) ৮৪৫ দিন ধরে আটক আছেন এবং গত ছয় সপ্তাহ ধরে তাকে একা একটি ‘ডেথ সেল’-এ  বন্দি রাখা হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও তার বোন ও পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমকি কোনও ফোন কল হয়নি, কোনও দেখা হয়নি এবং তার জীবিত থাকার কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।’

ইমরান খানকে ‘সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন’ অবস্থায় রাখা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে তিনি লেখেন, ‘ আমার ভাই এবং আমি কোনওভাবেই আমাদের বাবার সাথে যোগাযোগ করতে পারিনি। এই পুরো অন্ধকার পরিস্থিতি কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়। এটি ইচ্ছাকৃতভাবে তার অবস্থা গোপন করার চেষ্টা।’

যুক্তরাজ্যে বসবাসরত ইমরান খানের সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথ ছোট সন্তান কাাসিম খান আরও বলেন, ‘এটা স্পষ্ট যে পাকিস্তান সরকার এবং তার প্রভুরা আমার বাবার নিরাপত্তা এবং এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার প্রতিটি পরিণতির জন্য সম্পূর্ণ আইনি, নৈতিক এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব বহন করবে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে জরুরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জীবিত থাকার প্রমাণ নিশ্চিত করুন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষাৎ নিশ্চিত করুন, এই অমানবিক বিচ্ছিন্নতার অবসান ঘটান এবং পাকিস্তানের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক নেতার মুক্তির দাবি তুলুন, যাকে কেবল রাজনৈতিক কারণে আটক রাখা হচ্ছে।’

এর আগে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের তিন বোন অভিযোগ করেছেন, গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে ভাইয়ের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি তারা সাক্ষাতের দাবি জানাতে গিয়ে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের সামনে পুলিশের নৃশংস হামলার শিকার হয়েছেন।

ইমরান খানের তিন বোন- নরীন খান, আলীমা খান ও উজমা খান অভিযোগ করেছেন, রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বাইরে জড়ো হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চেয়েছিলেন তারা। এ সময় বিনা উসকানিতে তাদের ও পিটিআই সমর্থকদের ওপর হামলা চালিয়েছে পুলিশ।

ইমরানের দল পিটিআই বলেছে, ‘কারাগারে বাইরে শান্তিপূর্ণ ভাবে বসে থাকা অবস্থায় পুলিশের হামলার শিকার হয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তিন বোন ও সমর্থকরা। ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি তোলাই ছিল তাদের অপরাধ।’ এই  ‘নৃশংস’ পুলিশি হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছে দলটি।

পাঞ্জাব পুলিশের প্রধান উসমান আনোয়ারকে লেখা এক চিঠিতে ইমরান খানের তিন বোন বলেছেন, পুলিশ বিনা উসকানিতে ‘নৃশংস ও পরিকল্পিত’ হামলা চালিয়েছে। নরীন নিয়াজি খান বলেন, আমরা তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করেছি। আমরা রাস্তা অবরোধ করিনি, জনসাধারণের চলাচলে বাধা দিইনি। এমনকি বেআইনি কোনও কাজ করি নাই। তারপরও কারাগারের সামনের এলাকায় স্ট্রিটলাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। এর পরপরই পাঞ্জাব পুলিশের সদস্যরা আমাদের ওপর নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলা চালান।

তিনি বলেন, ‘৭১ বছর বয়সে আমাকে চুল ধরে টেনে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। রাস্তার ওপর ফেলে মারধর করেছে পুলিশ। এতে দৃশ্যমান আঘাতের সম্মুখীন হয়েছি আমি।’

কারাগারের বাইরে থাকা অন্যান্য নারী সমর্থককেও পুলিশ মারধর করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যায় উল্লেখ করে নরীন খান আরও বলেন, ‘পুলিশের আচরণ তিন বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদকারী নাগরিকদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত নির্বিচার বলপ্রয়োগের অংশ ছিল, যা উদ্বেগজনক দায়মুক্তির প্রতিফলন।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশের আচরণ সম্পূর্ণরূপে অপরাধমূলক, অবৈধ, নৈতিকভাবে নিন্দনীয় ছিল না এবং গণতান্ত্রিক সমাজে যেকোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মৌলিক কর্তব্যের সরাসরি পরিপন্থী ছিল না। অবিলম্বে এই নৃশংস হামলার সঙ্গে জড়িত সকল পুলিশ কর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ (আইজিপি পাঞ্জাব) করুন।’

প্রসঙ্গত, একাধিক মামলায় অভিযুক্ত পিটিআইয়ের প্রধান ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে তার সঙ্গে সাক্ষাতে অনানুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দেশটির সরকার। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর ভুয়া খবরও ছড়িয়েছে।

পিটিআইয়ের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে একেবারে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় একক কক্ষে বন্দি করে রেখেছে সরকার। ইমরান খানের একজন আইনজীবী খালিদ ইউসুফ চৌধুরী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, বইসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র এমনকি আইনজীবীদের প্রবেশাধিকারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে জঙ্গলের শাসন চলে; যে পশুকে শাসন করে, কেবল তারই অধিকার আছে। অন্য কারও কোনও অধিকার নেই।’ এমনকি খাইবার–পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকেও ইমরান খানের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তিনি টানা সাতবার কারাগারে গিয়ে সাক্ষাতের চেষ্টা করেছেন। তবে প্রতিবারই কারা কর্তৃপক্ষ তাকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )