
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ২নং ইশানিয়া ইউনিয়নের বাড়েয়া গ্রামে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিশ্বনাথ রায় এর বাগানে এবার ঝুলছে সোনালি দার্জিলিং কমলা। স্থানীয়ভাবে পরিচিত এই বাগান ‘কমলা ভ্যালী’ নামে। প্রতিদিনই ভিড় করছেন দর্শনার্থী, কেউ পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসছেন, কেউ ছবি তুলছেন।
বিশ্বনাথ রায় ২০২০ সালে তিন একর জমিতে কমলা ও মাল্টার চারা রোপণ করেন। নিয়মিত পরিচর্যার পর বাগানের ৫০০–এর বেশি গাছে,গাছ প্রতি এক থেকে দেড় মণ কমলা ধরেছে। পুরো বাগান চাষ করা হয়েছে সম্পূর্ণ অর্গানিক পদ্ধতিতে, কোনো রাসায়নিক সার ব্যবহার করা হয়নি।
বাগান মালিক বিশ্বনাথ রায় বলেন,দার্জিলিংয়ের কমলার বাগান দেখে স্বপ্ন দেখেছিলাম। করোনার সময়ে নিজ উদ্যোগে এই বাগান গড়ে তুলেছি। অর্গানিক চাষে প্রতি বছর খরচ বাদ দিয়ে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা আয় হয়। দর্শনার্থীরা চাইলে এখান থেকে তাজা কমলা ও চারা কিনতে পারেন।
বাগানে দেখতে আসা দর্শনার্থী মিরা আক্তার বলেন, এ প্রথম এত বড় কমলার বাগান দেখলাম। আমাদের এলাকায় এমন উদ্যোগ হবে ভাবতেও ভালো লাগছে।আরেক দর্শনার্থী সিনথিয়া বলেন , এ যেন অন্যরকম অনুভূতি। সমতলে এমন বাগান সত্যিই বিস্ময়কর।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নয়ন কুমার শাহা বলেন,সমতলে দার্জিলিং জাতের কমলা সফলভাবে চাষ হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বোচাগঞ্জের মাটি ও আবহাওয়া কমলার জন্য উপযুক্ত। এই ধরনের উদ্যোগ দেখে আরও কৃষক উৎসাহিত হচ্ছেন। বাণিজ্যিকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বোচাগঞ্জ কমলা উৎপাদনে অগ্রণী হয়ে উঠবে। কমলা ভ্যালী এখন শুধুমাত্র কমলার বাগান নয়, বরং স্থানীয় পর্যটন এবং শিক্ষণীয় কৃষি উদ্যোগের কেন্দ্র হিসেবেও পরিচিতি পাচ্ছে।
Related