1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত চার সন্তানের পিতা | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত চার সন্তানের পিতা

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৬ জন দেখেছেন
“আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে শেখালে, তুমি জীবনের পথ চলা, নিজে না খেয়ে তুমি খাওয়ালে শেখালে কথা বলা, বাবা তুমি আমার যত খুশির কারণ, বলো তোমার মতো করবে কে শাসন বাবা তুমি আমার বেঁচে থাকার কারণ, নেই তোমার মতো কেউ এতোটা আপন”। চারদিকে নীরবতা নিস্তব্ধতা। সেই নীরবতার মাঝেই ভারী হয়ে ওঠছে ক্যান্সারে আক্রান্ত এক বাবার দীর্ঘশ্বাস। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে দিনের পর দিন লড়ছেন তিনি। ধীরে ধীরে শরীর হয়ে যাচ্ছে নিস্তেজ। চোখে নেই ঘুম প্রতিনিয়ত মিতুর দিনক্ষণ গুনছেন তিনি। তবে জীবন মৃত্যুর এই সন্ধিক্ষণেও সবচেয়ে বড় আতঙ্ক চার মেয়ের  ভবিষ্যৎ।
ক্যান্সরে আক্রান্ত মাজেদুল বছরের পর বছর ধরে ফার্নিচার তৈরির কাজ করে সংসার চালাতেন। বছর খানেক আগে হঠাৎ শরীরে জটিল সমস্যা দেখা দিলে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে মরণব্যাধি ক্যান্সার। চিকিৎসকরা দ্রুত চিকিৎসার পরামর্শ দিলেও অর্থাভাবে মাঝপথেই থমকে গেছে তার চিকিৎসা। ইতিমধ্যে তার বসতবাড়ির কিছু অংশ বিক্রি করে দিয়েছেন। একদিকে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় চার মেয়ের ভরণপোষণ ও সংসারের হাল ধরেছেন মাজেদুলের বাবা রিক্সা চালক রুহুল আমিন । তবে মাজেদুলের বাবাও বয়সের ভারে ক্লান্ত, যে বয়সে ছেলের উপার্জনে আরাম আয়েশে চলার কথা ঠিক যেন উলটো চিত্র এখন। সকাল সন্ধা অটো চালিয়ে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছেলের চিকিৎসা খরচ ও তার সংসার চালাতে প্রতিনিয়তই পরতে হচ্ছে নানা বিরম্বনায়।
ভুক্তভোগী মাজেদুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের শরিফেরহাট ব্যাপারীপাড়া এলাকার রুহুল আমিনের বড়ছেলে। পেশায় দিনমজুর ছিলেন তিনি। কাজ করতেন স্থানীয়  ফার্ণিচারের দোকানে। পরিবারে আছেন চার মেয়ে ও তার স্ত্রী এবং বাবা-মা।
জানা গেছে, মাজেদুলের শরীরের এক বছর ধরে বাসা বেধেছে মরণব্যাধি ক্যান্সার। ঢাকার একটি হাসপাতালে দুই মাস চিকিৎসা করানোর পর অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ প্রায় রয়েছে। সপ্তাহ খানেক আগে ঢাকা থেকে ফেরত আনতে হয়েছে তাকে। মাজেদুলের পরিবার ও স্থানীয়রা বলছেন, সমাজের বিত্তবান শ্রেণির মানুষেরা এগিয়ে আসলে তার চিকিৎসা করানো সম্ভব এবং চার মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হত না। মাজেদুলের চিকিৎসা করতে আরও প্রায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা লাগবে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
মাজেদুলের স্ত্রী সাথী বেগম জানান, আমার স্বামী অনেক দিন থেকে অসুস্থ কয়েকমাস আগে ঢাকা নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করাতে গেলে পরিক্ষা নিরিক্ষা করে ডাক্তার বলেন ক্যান্সার হয়েছে। এখন টাকা পয়সা না থাকায় বাড়িতে ফেরত আনা লাগছে। চিকিৎসার জন্য সবার দ্বারে দ্বারে যাওয়া ছাড়া আমার আর কোন উপায় নাই। অসুস্থ স্বামীকে বাঁচাতে সমাজের বিত্তবান লোকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান তিনি।
প্রতিবেশী আবু জাফর বলেন, মাজেদুলের চিকিৎসার পিছনের অনেক টাকা পয়সা শেষ করেছে ওর বাবা। শেষ সম্বল বাড়ি ভিটাও বিক্রি করে দিছে। এখন গ্রামের মানুষ যতটুকু পারে সহযোগিতা করছে। তার মেয়েদের পড়ালেখা ও খাবার নিয়েও পরেছেন চরম দুশ্চিন্তায়।
মাজেদুলের বড় মেয়ে মাফিয়া আক্তার বলেন, আমাদের একমাত্র সম্বল আমার বাবা। কিন্তু বাবা অনেক দিন থেকে অসুস্থ। আমি মাদ্রাসায় পড়ি, পড়ালেখার খরচ দিতে পারছেনা। অনেক কষ্ট করতে হচ্ছে আমাদের। এখন যদি ধনী ব্যক্তিরা সাহায্য করেন তাহলে আমার বাবাকে সুস্থ করা যাবে তাহলে আমাদের আর সমস্যা হবে না।
মাজেদুলের বাবা রুহুল আমিন বলেন, দীর্ঘ একবছর থেকে বড় ছেলে মাজেদুলের চিকিৎসা করইতেছি। তার দুইশতক জায়গা ছিল ও ঘর ছিল সেটাও বিক্রি করে দিছি। আমি বাবা রিকশা চালিয়ে সংসার চালাই। এখন আর কুলাইতে পারছি না। ছেলের চিকিৎসায় আরও ২ থেকে আড়াই লাখ টাকা লাগবে। আপনাদের কাছে সাহায্য চাই যাতে আমার ছেলের চিকিৎসা করাতে পারি। আমার ছেলের বিকাশ নম্বর- ০১৯২৭৩৩৪৬০৫। সকলে একটু আমার সন্তান টাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন।
চিলমারী উপজেলা সমাজসেবা অফিসার (অ.দা.) মো. নাজমুল হাসান জানান, সমাজ সেবা অফিস থেকে ক্যান্সার সহ কয়েকটি রোগের চিকিৎসার জন্য অনুদান দেয়া হয়। নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করে জমা দিলে চিকিৎসার জন্য এককালীন ৫০ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হবে। দ্রুত টাকা পাওয়া নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আমরা সুপারিশ করবো।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )