1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ফুলবাড়ীতে পৌষের হাড় কাঁপানো শীতেও থেমে নেই কৃষি শ্রমিকরা: ফসল রক্ষায় লড়ছেন কৃষক | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ন

ফুলবাড়ীতে পৌষের হাড় কাঁপানো শীতেও থেমে নেই কৃষি শ্রমিকরা: ফসল রক্ষায় লড়ছেন কৃষক

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৮২ জন দেখেছেন
উত্তর জনপদের সীমান্তঘেষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে জেঁকে বসেছে পৌষের তীব্র শীত। ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও জীবন-জীবিকার তাগিদে ফসলের মাঠে নেমেছেন কৃষি শ্রমিকরা। এই শ্রমিকরা হাড় কাঁপানো ঠান্ডাকে উপেক্ষা শুধুমাত্র দুমুঠো আহারের জন্য কাকডাকা ভোর থেকে মাঠে মাঠে ফসলের পরিচর্যা করছেন।​
​তীব্র শীত ও কুয়াশায় রবি শস্যের জন্য ঠান্ডা আবহাওয়া উপযোগী ও কিছু কিছু ফসলের জন্য আশীর্বাদ হলেও অতিরিক্ত কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে আলু ও সরিষা এবং বোরো বীজতলার মতো ফসলে ‘লেট ব্লাইট’ বা পচন রোগের আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানান কৃষক।
​উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও শ্রমিকরা দলবেঁধে ভুট্টা, আলু ও শাক-সবজি জমিগুলোতে নিড়ানি দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ আমন ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন। এই কৃষি শ্রমিকরা গায়ে চাদর জড়িয়েই তারা কাজ করছেন।
উপজেলার পানিমাছকুটি এলাকার নারী কৃষি শ্রমিক জুহুরা জান্নাতি ও সখিনা বেগম জানান, “কাজ না করলে আমাদের চুলা জ্বলবে না, তাই শীত দেখে ঘরে বসে থাকার সুযোগ নেই। আমরা এ ভাবে প্রতিদিন মানুষের দিন মজুরী কাজ-কাম করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করি। তবে এই দুই নারী শ্রমিক আরও জানান কি শীত, কি বর্ষা সব মৌসুমে পুরুষদের সাথে সমান কাজ করেও আমাদের মজুরি কম বলে ক্ষোভ জানিয়েছেন। সেই সাথে হাড়কাঁপানো শীত এই নারী শ্রমিকরা এখনো কম্বল পায়নি বলেও জানান।
একই এলাকার কৃষক আব্দুল মজিদ ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের গজেরকুটি এলাকার কৃষি শ্রমিক বিদেশি চন্দ্র রায় এবং পূর্ব ফুলমতি এলাকার কৃষি শ্রমিক জয়নাল জানান, চার দিন থেকে সূর্যের দেখা নেই। এই পুষমাসি ঠান্ডায় হাত পা কাঁপছে ঠিক। তবে কাজ না করলে সংসার চলবে কি করে। গরীব দিন মজুরীরা ঠান্ডায় ঘরে বসে থাকলে আমাদের পেট চলবে না। তাই আমাদের যতই ঠান্ডা থাকুক কাজ করেই জীবন জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।
একই উপজেলার চন্দ্রখানা গ্রামের ভুট্টা চাষি হাসান আলী জানান ৫ বিঘা জমিতে ভুট্টা রোপন করা হয়েছে। এই তীব্র শীতে ফসল রক্ষার্থে আপাতত ভুট্টা খেতে নিড়ানি দিচ্ছি। ইতোমধ্যে ৩ বিঘা জমিতে হেমের ঔষধ প্রয়োগ করা হয়েছে। ঠান্ডার প্রকোপ কমার সঙ্গে সঙ্গে হালকা সেচ দেওয়া হবে।
একই কথা জানান পানিমাছকুটি এলাকার কৃষক লিটন মিয়াসহ অনেকে।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, সোমবার সকাল ৬টায় জেলার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েকদিন শীত ও কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং সামনে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা: নিলুফা ইয়াছমিন জানান, ভুট্টা ২ হাজার ২০০, গম ১৫০, সরিষা ৩ হাজার ৫০৫, আলু ৫৫০ ও বোরো বীজতলা ৫০০ হেক্টর জমিতে রোপন করা হয়েছে। কৃষি পক্ষ থেকে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়ায় এ সব ফসলের বিশেষ যত্ন নিতে এবং কোনো রোগ দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ভাবে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )