


গভীর রাতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ২০ জনেরও বেশি সশস্ত্র ডাকাত নগদ ২০ লাখ টাকার বেশি অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় প্রতিষ্ঠানের জিএমসহ অন্তত ১৬ থেকে ১৮ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে জানা গেছে, রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালী ইউনিয়নের জগদীশপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স ছাবেয়া অটো রাইস মিল লিমিটেডে মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ডাকাত দলটি প্রতিষ্ঠানের পেছনের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে মই তৈরি করে সীমানা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতদের হাতে রামদা, হাঁসুয়া ও দীর্ঘাকৃতির ধারালো চাকুসহ বিভিন্ন দেশিও অস্ত্র ছিল।
প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে তারা প্রথমে নিরাপত্তারক্ষী ও সেখানে অবস্থানরত ট্রাকচালকদের জিম্মি করে। এরপর অফিস কক্ষের তালা ভেঙে ড্রয়ারে রাখা নগদ অর্থ লুট করে নেয়। বাধা দিতে গেলে ডাকাতদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে প্রতিষ্ঠানের জিএম মোতাব্বেল বিল্লাহসহ অন্তত ১৬-১৮ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে জিএম মোতাব্বেল বিল্লাহর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সিসিটিভির মনিটর, অফিসের গ্লাস, কম্পিউটার, ড্রয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে। সেগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একটি কক্ষের মেঝেতে আহতদের রক্ত ছড়িয়ে আছে। মিলের ব্যবস্থাপক ডালিম বলেন, ডাকাতি শুরুর পরপরই তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ফোন করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ৩৩৩ নম্বরে কল করে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর পুলিশের গাড়ির হুইসেল শুনে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়।
ডালিম জানান, মিল খোলা ছিল। ধানের গাড়ি মিলে প্রবেশ করছিল। ধান ব্যবসায়ী ভোরে ট্রাকের সঙ্গে টাকা পাঠানোর জন্য ২০ লাখ টাকার বেশি রাখেন। সেই টাকা ডাকাতেরা নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তারাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুহুল আমিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে শীতের সময় অপরাধীরা সুযোগ বুঝে অপকর্ম করে থাকে। এমন কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে বিষয়ে পুলিশ কাজ করছে।