


কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারকে তার দায়িত্ব থেকে স্থগিত রাখা হয়েছে। গতকার রবিবার বিকেলে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান। এর আগে গত ২৩ জানুয়ারি একটি দৈনিকে “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হয়। পওে গতকাল রোববার ইউএনও মাহমুদুল হাসান এক বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন। বিকেলে তিনটায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।
বৈঠকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তিসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী নবম শ্রেণির রেজিস্ট্রেশন ফি সর্বোচ্চ ৩০২ টাকা নির্ধারিত থাকলেও ৬০০ টাকা আদায় করেন দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি। একইভাবে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি ফি সরকার নির্ধারিত সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার পরিবর্তে এক হাজার থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা নেন তিনি। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শাহাজাহান সরকার নামে এক অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আদায়কৃত সেশন ফি ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ, বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণে অনিয়ম, চেক ডিজঅনার মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে জামিনে থাকা, বিদ্যালয়ের ভেতরে প্রাইভেট ও কোচিং বাণিজ্য পরিচালনা এবং প্রায় ৮০টি দোকানঘরের ভাড়ার টাকার স্বচ্ছ হিসাব না থাকা নানা অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। এসব অনিয়মের কারণে প্রধান শিক্ষকের প্রায় দুই বছর ধরে বেতন বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার বলেন, আজ (গতকাল) রোববার শুনানি ছিল।
আমাকে উনি (ইউএনও) বলছেন একটু সরে থাকেন। তবে পদ স্থগিতের কোনো চিঠি পাননি বলেও জানান তিনি। উলিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রেক্ষিতে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন। প্রধান শিক্ষকের নামে মামলা থাকায় বেতন বন্ধ রয়েছে। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে প্রধান শিক্ষকের পদসহ সকল দায়িত্ব স্থগিত করা হয়েছে। খুব দ্রুত ওই বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হবে।