


দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার স্ত্রীর মামলায় ২ সপ্তাহ ধরে জেল হাজতে থাকায় রোগী পরিবহণে দূর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের পক্ষ থেকে ড্রাইভারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে।
মামলা সূত্রে প্রকাশ, বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার কামরুজ্জামানের (৫৪) সাথে শিউলী বেগমের (৪৭) পারিবারিক ভাবে ১৯৯৮ সালে বিয়ে হয়। মেয়ের সুখের জন্য শিউলী বেগমের পিতা-মাতা পাঁচ লাখ টাকার আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার উপহার দেন। পরবর্তীতে চাকুরীর কথা বলে শিউলী বেগমের জমি বিক্রি করে কামরুজ্জামান পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন। তাদের ঔরসে এক কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।
ইতোমধ্যে কামরুজ্জামান পরোকিয়ায় জড়িয়ে পড়ে এবং শিউলী বেগমের নিকট আরো ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। গত বছরের ৮ মে যৌতুকের টাকার জন্য চাপ প্রয়োগ এবং উত্তেজিত হয়ে কামরুজ্জামান স্ত্রী শিউলী বেগম ও মেয়েকে লাঠি দিয়ে এলোপাথারি মারপিটে আহত করে। সুস্থ্যতার পর শিউলী বেগম সন্তানকে নিয়ে ভাইয়ের বাড়ি আশ্রয় নেন। সেখানে শালিস বৈঠকে কামরুজ্জামান যৌতুক ছাড়া স্ত্রী সন্তানদের বাড়িতে তুলবেনা বলে জানালে স্ত্রী শিউলী বেগম দিনাজপুর আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় হাজিরা দিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত কামরুজ্জামানকে জেল হাজতে পাঠিয়েছেন।
জেল হাজতে থাকার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার ১২ জানুয়ারি থেকে ২৬ জানুয়ারি পর্যন্ত হাসপাতালে অনুস্থিত রয়েছেন। ড্রাইভার না থাকায় হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্সটিও বন্ধ রয়েছে। ফলে এখান থেকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর যোগ্য রোগিরা পরিবহন সমস্যায় দূর্ভোগে পড়ছেন।
বাধ্য হয়ে তারা অতিরিক্তি ভাড়া দিয়ে বেসরকারী পরিবহণে যাতায়াত করছেন। বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. শাহরিয়ার পারভেজ জানান, অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার কামরুজ্জামার ২ সপ্তাহ ধরে জেল হাজতে থাকায় রোগী পরিবহণে দূর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। তার বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে সিভিল সার্জনসহ উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট লিখিত পত্র পাঠানো হয়েছে।