


“বিশ্ব শান্তি কল্পে” কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ১৭তম আন্তঃউপজেলা নামযজ্ঞ মহোৎসব উদযাপন পর্ষদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে চারদিন ব্যাপী নামযজ্ঞ মহোৎসব ও অপ্রাকৃত লীলাকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নে নাগদাহ কসালেরতল সার্বজনীন কৃষ্ণ মন্দির প্রাঙ্গণে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্তের ঢলে মুখরিত মন্দির প্রাঙ্গণ। যেন ভক্তের সমাগমে বিন্দাবন ধামে পরিনিত হয়। জাঁকজঁমক পূর্ণভাবে অপ্রাকৃত লীলা শিল্পীরা অসাধারণভাবে লীলাকীর্ত্তন পরিবেশনে ভক্তদের মাঝে প্রশংসা করিয়েছেন। লীলাকীর্ত্তন অনুষ্ঠানে আসা হাজার হাজার ভক্তের মনকে জাগিয়ে তুলেছেন এবং সব বয়সী ভক্তের মনকে মাতিয়ে তুলেছেন লীলা শিল্পীরা।
মঙ্গলবার ৩ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় কৃষ্ণ মন্দিরে গিয়ে এচিত্র দেখা গেছে। সেখানে অনুষ্ঠান মঞ্চে উত্তরবঙ্গের চার গুণী লীলা শিল্পী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলা পরিবেশনে নিজেরাই কাঁদেন আবার ভক্তদেরকেও কাঁদিয়েছেন। উত্তরবঙ্গের এই চার সারা জাগানো গুণী লীলারানহলে, সাতক্ষিরা থেকে ধর্মদাস সরকার (পাপ্পু), নওগাঁর পুষ্প রানী সরকার, দিনাজপুরের সুপ্রিয়া সরকার, রাজশাহীর ভরত দাস।
চারদিন ব্যাপী এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্তের হাজার হাজার ভক্তদের খিচুরি প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভক্তরা লাইনে বসে পরিবার-পরিজনসহ স্বাচ্ছন্দ্যে মহা প্রসাদ গ্রহণ করেন। প্রতি বছরের ন্যায় উপজেলার ৬ টি ইউনিয়নের হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা পূর্ণিমায় তিথি অনুযায়ী আন্তঃ উপজেলা নামযজ্ঞ মহোৎসব উদযাপন পর্ষদ (সংগঠনটি) দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে অনুষ্ঠান করে আসছে।
এরআগে ১ ফেব্রুয়ারী সন্ধ্যায় আন্তঃ উপজেলা নামযজ্ঞ মহোৎসব উদযাপন পর্ষদের সভাপতি শুশীল কুমার রায়ের সভাপতিত্বে ধর্মীয় আলোচনা সভা, অধিবাস, ভজন সংগীত, গীতা থেকে আবৃতি ও গীতা-ভাগবতের উপর কুইজ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে গীতা, গোপাল পূর্তি, রাধাকৃষ্ণের যুগোল পূর্তি তুলে দেন অনুষ্ঠানে প্রধান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি রবিবোস, বিশেষ অতিথি সাধারণ সম্পাদক দুলাল চন্দ্র সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আন্তঃ উপজেলা নামযজ্ঞ মহোৎসব উদযাপন পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চন্দ্র সরকার, উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ভারত চন্দ্র রায়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টাস ঐক্য পরিষদের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় সরকার, সাধারণত সম্পাদক অনীল চন্দ্র রায়, ফেব্রুয়ারী অষ্টপ্রহর ব্যাপী মহানাম সংকীর্ত্তণ ভোর থেকে ৩ ফেব্রুয়ারী ভোরে সমাপ্ত হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারী ভোর থেকে অষ্টপ্রহর ব্যাপী অষ্টকালীন লীলাকীর্ত্তন শুরু হলে পরদিন ৪ ফেব্রুয়ারী সকাল ৬ টায় সমাপ্তি ঘটে।
নাগেশ্বরী উপজেলার বেরুবাড়ী থেকে আসা ভক্ত বিমল চন্দ্র রায় ও নাগেশ্বরী সদর থেকে আসা নারী ভক্ত লিপিকা রাণী রায় ও তার স্বামী নিখিল চন্দ্র রায় জানান, চারদিন ব্যাপী এই অনুষ্ঠানে আমরা দুই দিন এসেছি। প্রতি বছরে আমরা এই অনুষ্ঠানে আসা হয়। তবে এ বছর ভক্তের সমাগম প্রচুর। আর এবার লীলা শিল্পীরাও অনেক ভালো কীর্ত্তন পরিবেশন করছে। সব চেয়ে বড় বিষয় আন্ত: উপজেলা নামযজ্ঞ মহোৎসব উদযাপন পর্ষদের কমিটির সকল সদস্যদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তারা দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে সততা ও ন্যায়ের সঙ্গে বিশাল খরচ করে অনুষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় ও সাধারণ সম্পাদক অনীল চন্দ্র রায় জানান, “বিশ্ব শান্তি কল্পে” ১৭ তম আন্তঃউপজেলা নামযজ্ঞ মহোৎসব উদযাপন পর্ষদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে অত্যান্ত উৎসব মূখর পরিবেশে চারদিন ব্যাপী নামযজ্ঞ মহোৎসব ও অপ্রাকৃত লীলাকীর্ত্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। যদিও এই অনুষ্ঠানগুলো ব্যয় অনেক হলেও এভাবেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নাম প্রচারসহ হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্য অনুষ্ঠানগুলো করতে হয়।
আন্তঃ উপজেলা নাম যজ্ঞ মহোৎসব উদযাপন পর্ষদের সভাপতি শুশীল কুমার রায় ও সাধারণ সম্পাদক কার্ত্তিকচন্দ্র সরকার জানান, দুর-দুরান্তের ভক্তরা শান্তিপূর্ণ ভাবে মহানামযজ্ঞ মহোৎসব ও অপ্রাকৃত লীলা কীর্তন উপভোগ করেছে। বুধবার বিকালে মোহন্ত বিদায়ের মধ্য দিয়ে চারদিন ব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ভাবে হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন, ফুলবাড়ী থানা পুলিশ, গ্রাম পুলিশসহ সকল সনাতনীদেরকে ধন্যবাদ জানান।