


মাহে রমজানের অন্যতম বিধান রোজা পালন করা। এর জন্য প্রয়োজন সংযম। এ মাসে কিছু বর্জনীয় এমন রয়েছে, যা রোজার দিনে আমাদের অজান্তেই ঘটে যায়। তখন রোজা ভেঙে যায় এবং সেই রোজার কাজা ও কাফফারা উভয়টি আবশ্যক হয়। এমন ৪টি বিষয় তুলে ধরা হলো
স্ত্রী সহবাস
রমজানের রোজা রেখে দিনের বেলা স্ত্রী সহবাস করলে বীর্যপাত না হলেও স্বামী-স্ত্রী উভয়ের ওপর সেই রোজার কাজা-কাফফারা ওয়াজিব হবে। হাদিসে পাকে এসেছে
পবিত্র রমজানে জুমার দিনের বিশেষ ফজিলত ও করণীয় আমল
‘নবী (সা.)-এর কাছে এক লোক এসে বলল, আমি ধ্বংস হয়ে গেছি। তিনি বললেন, তোমার কী হয়েছে? লোকটি বলল, রমজানে (দিনের বেলা) আমি আমার স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করেছি। তিনি বললেন, তুমি কি একটি গোলাম আযাদ করতে পার? লোকটি বলল, না। তিনি বললেন, তাহলে তুমি কি এক নাগাড়ে দু’ মাস সওম পালন করতে পার? সে বলল, না। তিনি বললেন, তা হলে কি তুমি ষাটজন মিস্কীনকে খানা খাওয়াতে পারবে? সে বলল, না। তিনি বললেন, বস। লোকটি বসল। তারপর নবী (সা.)-এর কাছে এক ’আরক’ আনা হলো যাতে ছিল খেজুর। আর ’আরক’ হল মাপ করার জন্য বড় ধরণের পাত্র। তিনি বললেনঃ এটা নিয়ে যাও এবং তা সদকা করে দাও। লোকটি বলল, আমার চেয়েও অভাবীকে (তা দান করব)? তখন নবী (সা.) হেসে ফেললেন, এমন কি তাঁর মাড়ির দাঁত পর্যন্ত দেখা গেল। তিনি বললেন, এটা তোমার পরিজনকেই খাওয়াও। (বুখারি ৬৭০৯)
ইচ্ছাকৃত পানাহার
রোজা রেখে স্বাভাবিক অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করলে কাজা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে। (আল বাহরুর রায়েক ২/২৭৬)।
ধুমপান
বিড়ি-সিগারেট, হুক্কা পান করলেও রোজা ভেঙে যাবে। কাজা ও কাফফারা উভয়টি জরুরি হবে। (রদ্দুল মুহতার ৩/৩৮৫)।
ভিত্তিহীন অজুহাতে পানাহার
সুবহে সাদিক হয়ে গেছে জানা সত্ত্বেও আজান শোনা যায়নি বা এখনও ভালোভাবে আলো ছাড়ায়নি; এ ধরনের ভিত্তিহীন অজুহাতে পানাহার করলে বা স্ত্রী সহবাসে লিপ্ত হলে কাজা ও কাফফারা দুটোই জরুরি হবে। (মাআরিফুল কোরআন ১/৪৫৪-৪৫৫)।