


সারাদেশের নেয় দেশের কমবেশি সব উপজেলায় জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলায় জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ, পরিবহনচালক ও কৃষকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন; এরই মধ্যে উপজেলায় অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুত ও কালোবাজারি প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন।
শনিবার দুপুরে উপজেলার শিবরামপুর ইউনিয়নের ধনগাঁও বাজার এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে জগদীশ কুমার রায়ের ছেলে পরিতোষ কুমার রায়ের বাড়ি থেকে ৩৮০ লিটার ডিজেল ও ৩৪ লিটার অকটেন উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিতোষ কুমার রায় স্বীকার করেন, এসব তেল উচ্চ মূল্যে বিক্রির উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে মজুত করা হয়েছিল।
ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অভিযুক্তকে ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৫,০০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। এ সময় বীরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সাইফুল ইসলামসহ পুলিশের একটি টিম অভিযানে অংশ নেয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমা খাতুন বলেন- জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো ধরনের কালোবাজারি, অবৈধ মজুত বা কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।
যারা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়িয়ে অবৈধভাবে মুনাফা লুটতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না-অভিযান চলবে, দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। প্রশাসন জানায়, জব্দকৃত তেল সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং বিক্রয়লব্ধ অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হবে। অবৈধ মজুত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।