1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ, আইন ভেঙে ‘মানসিক রোগি’ যুবককে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দিলেন এসিল্যান্ড | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ন

শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগ, আইন ভেঙে ‘মানসিক রোগি’ যুবককে ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা দিলেন এসিল্যান্ড

নাগেশ্বরী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২৩ জন দেখেছেন

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে স্কুলে যাওয়ার পথে এক শিক্ষার্থীর শ্লীলতাহানীর অভিযোগে ‘মানসিক রোগগ্রস্থ’ এক যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ঘটনার প্রায় দেড় ঘন্টা পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বদরুজ্জামান রিশাদ এই সাজা দেন।

সাজাপ্রাপ্ত যুবকের নাম মাহাবুর রহমান (২৪)। সে নাগেশ্বরী পৌরসভার গোদ্ধারের পাড় এলাকার ইছহাক আলীর ছেলে। মাহাবুব মানসিকভাবে বিকারগ্রস্থ এবং চিকিৎসাধীন বলে দাবি করেছে তার পরিবার। তার ঘরে স্ত্রী এবং এক মেয়ে রয়েছে জানিয়েছে পরিবার।

নাগেশ্বরী দয়াময়ি (ডিএম) পাইলট একাডেমি নামে স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে,এম আনিছুর রহমান জানান, শ্লীলতাহানীর শিকার স্কুল ছাত্রী সোমবার পৌনে ১০ টার দিকে বাড়ি থেকে আসার পথে স্কুলের প্রায় ১০০ গজ দূরে একটি মার্কেটের সামনে মাহাবুর ওই স্কুল ছাত্রীর শ্লীলতাহানী করে। এ সময় আশপাশের লোকজন তাকে আটক করে বেঁধে রাখে। অনেকে মারধর করে। পরে পুলিশ ওই যুবককে উদ্ধার করে স্কুলে নিয়ে আসে। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে অভিযুক্ত যুবককে সাজা দেন এসিল্যান্ড।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্থানীয়রা ওই যুবককে একটি খুঁটির সাথে বেঁধে রাখার পর কয়েকজন তাকে মারধর করে। ভুক্তভোগী স্কুল শিক্ষার্থীও ওই যুবককে স্যান্ডেল দিয়ে মারধর করে। এ ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে নিরাপত্তা হেফাজতে নেয়। তাকে চিকিৎসার জন্য নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। পরে অভিযুক্ত যুবককে হাসপাতাল থেকে স্কুলে নেওয়া হয়। ঘটনার প্রায় দেড় ঘন্টা পরে সেখানে এসিল্যান্ড উপস্থিত হন। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে বসে ভ্রাম্যমান আদালতে ওই যুবককে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত নাগেশ্বরী থানা পুলিশের উপ পরিদর্শক এনামুল হক বলেন,খবর পাওয়ার সাথে সাথে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই যুবককে খুঁটিতে বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। পরে সেখান থেকে নিয়ে আসার পর ভ্রাম্যমান আদালতে সাজা প্রদান করা হয়।

মাহবুরের বড় ভাই মাইদুল ইসলাম বলেন,মাহবুর প্রায় ৪ বছর ধরে মানসিক রোগে ভুগছে। রংপুরের এক ডাক্তারের কাছে তার চিকিৎসা চলছে। আমাদের কাছে চিকিৎসাপত্র আছে। কিন্তু এসিল্যান্ড আমাদের কোনো কথা শোনেন নাই। আমার ভাইকে সাজা দেওয়ার আগে তাকে বেঁধে মারা হইছে। এর বিচার কার কাছে চাইবো? প্রশ্ন রাখেন মাইদুল।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও ঘটনার প্রায় দেড় এক ঘন্টা পর ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে সাজা প্রদান করা আইনের লঙ্ঘন বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির‌্যাতন দমন আইনে নিয়মিত মামলা দিয়ে অভিযুক্ত যুবককে আদালতে সোপর্দ করা উচিৎ ছিল বলে মত তাদের।

এসিল্যান্ড বদরুজ্জামান রিশাদ বলেন, আমার সামনে অপরাধ সংঘটিত না হলেও আমি ঘটনা উদঘাটন করেছি যা মোবাইল কোর্ট আইনের এখতিয়ারভুক্ত। সুতরাং এখানে আইনের লঙ্ঘন হয়নি। ওই যুবককে মারধর করা হয়েছে কিনা সেটা আমার জানা নেই।

ঘটনার দেড় ঘন্টা পর মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা যায় কি না, এমন প্রশ্নে এসিল্যান্ড বলেন,কতক্ষণ পর করেছি সেটা বিষয় নয়, আমি সংবাদ পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে মোবাইল কোর্ট করেছি। স্কুলের সামনের ঘটনা হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে।
তবে আইনজীবীরা বলছেন, সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে এটি উদঘাটন নয়। সে সময় এসিল্যান্ড অভিযানে ছিলেন না, তার সামনে অপরাধ সংঘটিত হয়নি।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন,মোবাইল কোর্ট আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে,ক্ষমতাপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট আইন শৃংখলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করবার সময় তার সম্মুখে সংঘটিত বা উদঘাটিত অপরাধ হতে হবে। এক্ষেত্রে এসিল্যান্ডের সামনে এর কোনোটাই ঘটে নাই। জনতা এবং পুলিশ আসামিকে আটক করেছে। তিনি অভিযানেও ছিলেন না। ঘটনার প্রায় দেড় ঘন্টা পর তার এই সাজা প্রদান আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অসদাচরণ। তিনি ওই আসামিকে যে জেল দিয়েছেন সেটা অবৈধ আটক । এ জন্য সংক্ষুদ্ধ ব্যক্তি যেকোনও সময় তার বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )