


মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ নিয়ে হঠাৎ সুর নরম করলো যুক্তরাষ্ট্র। হরমুজ প্রণালি পারপারে কিছু জাহাজকে ছাড় দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে তারা। সোমবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির পূর্বে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের অংশে সব ধরনের জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ কার্যকর করা হবে।নাবিকদের জন্য জারি করা জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমতি ছাড়া অবরুদ্ধ এলাকায় প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করলে যে কোনো দেশের জাহাজকে আটক, ঘুরিয়ে দেওয়া কিংবা জব্দ করা হতে পারে। সেক্ষেত্রে কোনো দেশের পতাকা বা পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করলে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে।
তবে সেন্টকম স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অ-ইরানি গন্তব্যে যাওয়া বা সেখান থেকে আসা নিরপেক্ষ জাহাজের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করা হবে না। যদিও এসব জাহাজেও তল্লাশি চালানো হতে পারে। এছাড়া খাদ্য, ওষুধ ও জরুরি সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা বহনকারী জাহাজ চলাচলের অনুমতি পাবে। তবে সেগুলোকেও পরিদর্শনের আওতায় রাখা হবে।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা বের হওয়ার চেষ্টা করা সব জাহাজের ওপর অবরোধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করবে এবং এতে অন্যান্য দেশও অংশ নেবে।
ট্রাম্প আরও হুঁশিয়ারি দেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ইরানকে টোল দেওয়া যে কোনো জাহাজকে আটক করা হবে। তার কথায়, ‘যারা অবৈধ টোল দেবে, তাদের নিরাপদ চলাচল থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্র বা শান্তিপূর্ণ জাহাজের ওপর হামলা চালায়, তাহলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।’
তবে পরে সেন্টকম জানায়, এই অবরোধ মূলত ইরানগামী বা ইরান থেকে আসা জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অ-ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ক্ষেত্রে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা বজায় রাখা হবে।
সূত্র: রয়টার্স