1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
ফুলবাড়ীতে সবুজের মাঠে কচুরিপানার বেগুনি-সাদা স্বপ্নের গালিচা: মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা | দৈনিক সকালের বাণী
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

ফুলবাড়ীতে সবুজের মাঠে কচুরিপানার বেগুনি-সাদা স্বপ্নের গালিচা: মুগ্ধ প্রকৃতিপ্রেমীরা

ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৫০ জন দেখেছেন
গ্রামবাংলার প্রকৃতি যেন আপন খেয়ালে সাজিয়েছে এক অনন্য রঙিন ক্যানভাস। বিস্তীর্ণ সবুজ ফসলের মাঠের মাঝখানে জলাশয়জুড়ে ফুটে থাকা হাজার হাজার কচুরিপানা ফুল দূর থেকে দেখলে মনে হয়—সবুজের বুকে কেউ বেগুনি-সাদা গালিচা বিছিয়ে দিয়েছে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য এখন পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ছড়ারপাড় এলাকায় ফুলবাড়ী-বালারহাট সড়কের পাশের মুক্ত জলাশয়জুড়ে এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা যাচ্ছে।
সড়ক দিয়ে চলাচলকারী মানুষের চোখ আটকে যাচ্ছে এই বর্ণিল ফুলের সমারোহে। যতদূর চোখ যায়, সবুজের মাঝে বেগুনি, সাদা আর হালকা গোলাপি রঙের মিতালী যেন হৃদয় জুড়িয়ে দেয়।
স্থানীয় পথচারী অসীম কুমার রায় ও মইনুল ইসলাম  বলেন, “সবুজ আর বেগুনি ফুলের এই মেলবন্ধন সত্যিই বিরল। আমরা প্রতিদিন যাতায়াতের পথে এই দৃশ্যটি দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।
জানা গেছে, কচুরিপানা একটি ভাসমান বহুবর্ষজীবী জলজ উদ্ভিদ, যার আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা। পানির উপর ভাসমান চকচকে সবুজ পাতা ও বেগুনি-সাদা রঙের ছয় পাপড়িযুক্ত ফুল এর সৌন্দর্যকে করে তোলে আরও আকর্ষণীয়। দ্রুত বংশবিস্তারকারী এই উদ্ভিদ খাল-বিল, ডোবা, পুকুর ও নিচু জমিতে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।
শুধু সৌন্দর্যই নয়, কচুরিপানার রয়েছে বহুমুখী ব্যবহার। এটি দেশীয় মাছের বংশবিস্তার ও জলাশয়ের পানি ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। কিছু মাছের খাদ্য হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
এছাড়া কচুরিপানা থেকে জৈব সার তৈরি করা হয়, যা কৃষিকাজে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি ভাসমান বেড তৈরি করে এর ওপর সবজি চাষও করা হয়। গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও এর ব্যবহার রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রশিদ ও আব্দুর রাজ্জাক জানান, এলাকার বিভিন্ন জলাশয় থেকে কচুরিপানা তুলে শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। পাশাপাশি এটি গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবেও কাজে লাগে।
এদিকে, ফুলের এই অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে অনেকে মোবাইল ফোনে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের কাছেও এটি হয়ে উঠেছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
ফুলপ্রেমী অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার ও প্রধান মিজানুর রহমান বলেন, “মুক্ত জলাশয়ে একসঙ্গে এত কচুরিপানা ফুল ফোটা সত্যিই বিরল দৃশ্য। এর নকশাখচিত পাপড়ি সহজেই মানুষের মন জয় করে। সড়কে চলাচলরত পথচারীসহ সব ধরনের মানুষ সবুজ ফসলের মাঝে কচুরিপানার রঙিন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. নিলুফা ইয়াছমিন জানান, কচুরিপানা থেকে উৎপাদিত জৈব সার কৃষকের জন্য উপকারী এবং কিছু এলাকায় এটি বাণিজ্যিকভাবেও ব্যবহৃত হচ্ছে। তবে দ্রুত বংশবিস্তারকারী হওয়ায় ধানের জমিসহ ফসলি জমিতে এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি, না হলে ফলনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, কচুরিপানার এই রঙিন উপস্থিতি যেমন প্রকৃতিতে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে, তেমনি এর ব্যবহারিক দিকও এনে দিচ্ছে নানামুখী উপকার। তবে সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা জরুরি বলেও মনে করছেন তিনি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )