


রংপুরের বদরগঞ্জে কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আরিফুল ইসলাম (২৫) নামে এক নিরীহ রিকশাচালককে কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলের দিকে ঘটনাটি ঘটে পৌরশহরের আম্বিয়ার মোড় এলাকায়। নিহত আরিফুল ইসলাম পৌরশহরের পাঠানপাড়া এলাকার রেজাউল ইসলামের ছেলে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, পূর্বের একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় পৌরশহরের শংকরপুর বটপাড়া এলাকার কিশোর গ্যাং এর অন্যতম সদস্য ফিরোজ গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে পাঠানপাড়ার কয়েকজন যুবক মঙ্গলবার সকালে রংপুর আদালতে হাজিরা দিতে যান। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনার জেরে দুপুরের দিকে পাঠানপাড়া গ্রুপের লোকজন লাঠিসোটা নিয়ে নিয়ে ফিরোজ ইসলামের (মার্ডার ফিরোজ) বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে প্রতিশোধ নিতে ফিরোজ গ্রুপের সদস্যরা দলবল নিয়ে পৌরশহরে মহড়া দিয়ে প্রতিপক্ষকের লোকজনকে খুঁজতে থাকে। এ সময় পৌরশহরের আম্বিয়ার মোড় এলাকায় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা আরিফুল ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলাকারীদের একজন বলে ওঠে, ‘এই ছেলের বাড়ি পাঠানপাড়ায়। একে ধরো।’ বলার সঙ্গে সঙ্গে তারা নিরীহ আরিফুলের ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে রাস্তায় ফেলে চলে যায়। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় আরিফুলকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য এর আগে তিনটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফিরোজ ইসলামের (মার্ডার ফিরোজ) বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান। সন্ধ্যায় সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতাল চত্বরে নিহত আরিফুল ইসলামের স্ত্রী শারমিন খাতুন স্বামীর মৃত্যুর ঘটনায় কোলের তিন বছরের কন্যা সন্তান আখি মনিকে নিয়ে আর্তনাদ করছেন। তার এমন হৃদয় বিদারক কান্নায় হাসপাতাল চত্ত্বরে শোকের ছায়া নেমে আসে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. যাদোবেন্দ্র নাথ সরকার বলেন, ‘নিহতের মাথা ও ঘাড়ে একাধিক গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।
বদরগঞ্জ থানার ওসি হাসান জাহিদ সরকার বলেন, ‘দুই গ্রুপের পূর্ব বিরোধের জেরে আদালতে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিপক্ষকে না পেয়ে এক নিরীহ রিকশাচালকের ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার করা হবে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।