বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বিজয় কুমার রায় জানান, গরমজনিত কারণে রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আউটডোর ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন গরমজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন।
তিনি জানান, বর্তমানে তীব্র ডায়রিয়া, গ্যাস্ট্রোএন্টারোটাইটিস, শ্বাসনালীর সংক্রমণ, নিউমোনিয়া, হিট এক্সহসশন এবং বিভিন্ন চর্মরোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে। দূষিত পানি ও গরমে নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার খাওয়ার কারণে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত গরমে শরীরে পানিশূন্যতা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা ও পেশিতে টান নিয়ে অনেক শ্রমজীবী মানুষ হাসপাতালে আসছেন।
হিট স্ট্রোকের বিষয়ে ডা. বিজয় কুমার রায় বলেন, “এখন পর্যন্ত হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত কোনো রোগীর ডকুমেন্টেশন পাওয়া যায়নি।”
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “তৃষ্ণা না পেলেও পর্যাপ্ত নিরাপদ পানি পান করতে হবে। দুপুর ১১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সরাসরি রোদে কাজ করা এড়িয়ে চলা উচিত। এছাড়া বাসি ও খোলা খাবার পরিহার এবং ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।”
রোগীকে দেখতে আসা মাহবুব হোসেন বলেন, “আমার ভাই মাঠে কাজ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে বমি শুরু হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।চিকিৎসা নিতে আসা আরিফুর রহমান বলেন, “ভুট্টা ক্ষেতে কাজ করতে গিয়েছিলাম। এরপর থেকেই শরীর খারাপ লাগে। হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছি।
রিকশাচালক মজিবুর রহমান বলেন, “আগের চেয়ে গরমে কাজ করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। মানুষ কম বের হওয়ায় আয়ও কমে গেছে।”কৃষক ফারুক হোসেন জানান, “মাঠে কাজ করতে সমস্যা হচ্ছে। গরমে শরীর খারাপ লাগে। তাই কাজের সময়ও কিছুটা পরিবর্তন করেছি।”
স্থানীয় ফার্মেসিগুলোতেও খাবার স্যালাইন, জ্বর ও ডায়রিয়ার ওষুধের চাহিদা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
দিনাজপুর জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ৪ জুনের পর বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।