


সরকারি কৃষি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও অন্যান্য সুবিধা যেন প্রকৃত কৃষকদের হাতেই পৌঁছায়, সে লক্ষ্যেই কৃষক কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ ও দিনাজপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামান মিয়া।
তিনি বলেন, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে একটি নির্ভুল তথ্যভান্ডার (ডাটাবেজ) গড়ে তোলা হবে। এতে কৃষি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি সহায়তা যথাযথ ব্যক্তির কাছে পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে। গতকাল বুধবার খানসামা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের খরিপ-২ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন (হাইব্রিড ও উফশী) জাতের শাকসবজির উৎপাদন ও আবাদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ এবং কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান সরকার সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক চৌধুরী, জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক রবিউল আলম তুহিন, গোয়ালডিহি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাখাওয়াত হোসেন লিটন, বিএনপি নেতা শরিফুল ইসলাম প্রধান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সাঈয়েদ আহমেদ সেলিম বুলবুল, ভেড়ভেড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম বাবুল।
এছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে হুইপ আখতারুজ্জামান মিয়া বলেন, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সরকার কৃষকদের জন্য যে উন্নতমানের বীজ, সার ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করছে, সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
এতে শুধু একজন কৃষক নয়, দেশের সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে। তিনি বলেন, কৃষিকে একটি সম্মানজনক ও লাভজনক পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করে চাষাবাদ করলে উৎপাদন যেমন বাড়বে, তেমনি কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে। কৃষক কার্ড কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তথ্য সংগ্রহের সময় জমির পরিমাণ, আবাদকৃত ফসলসহ সব তথ্য সঠিকভাবে দিতে হবে।
কোনো ধরনের মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত তথ্য দেওয়া যাবে না। যাচাই-বাছাইয়ে ভুল তথ্য প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তিনি তথ্য সংগ্রহে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করার জন্য কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড শুধু ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য নয়; বড় কৃষক, বর্গাচাষি এবং চুক্তিভিত্তিক চাষিরাও এই কার্যক্রমের আওতায় আসবেন।
একটি নির্ভুল কৃষক ডাটাবেজ তৈরি হলে কার কত জমি রয়েছে, কোথায় কী ফসলের আবাদ হচ্ছে এবং কী পরিমাণ কৃষি উপকরণ প্রয়োজন—এসব তথ্যের ভিত্তিতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কৃষি ভর্তুকি, প্রণোদনা, কৃষিঋণ ও অন্যান্য সেবা প্রদান করতে পারবে। অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উপকারভোগী কৃষকদের হাতে উন্নতমানের বিভিন্ন হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার তুলে দিয়ে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
একই সঙ্গে উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমেরও উদ্বোধন করা হয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের উন্নতমানের হাইব্রিড ও উফশী জাতের শাকসবজির বীজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, সরকারি ভর্তুকি, কৃষি প্রণোদনা, কৃষি বীমা, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্র সংগ্রহ, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগসহ বিভিন্ন সরকারি সেবা পাবেন।
পাশাপাশি মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আবহাওয়ার পূর্বাভাস, বাজারদর, রোগবালাই দমন, কৃষি প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কিত তথ্যও সহজেই জানতে পারবেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পর্যায়ক্রমে উপজেলার সব ইউনিয়নে কৃষক কার্ডের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাশাপাশি কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচিও অব্যাহত থাকবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে কৃষি খাতকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ করার পাশাপাশি কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।