এর ফলে মহিপুর দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এতে হুমকির মুখে পড়েছে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু, রংপুর–কাকিনা আঞ্চলিক সড়কসহ আশপাশের হাজারো মানুষের বসতবাড়ি।
স্থানীয় ও প্রশাসনিক সূত্র জানায়, ভাঙন পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও সমাধানের লক্ষ্যে ঢাকা থেকে এলজিইডির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উজান থেকে আসা ঢলের কারণে ডালিয়া পানি নিয়ন্ত্রণ ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে তিস্তার পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবল বেগে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতের আঘাতে বাঁশের পাইলিং ভেঙে বাঁধ এলাকায় নতুন করে ভাঙন শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে এবং প্রায় ৭০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছর ভাঙনে দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধের ১০০ মিটারের বেশি অংশ নদীতে বিলীন হয়। এরপর স্থায়ী সমাধানের পরিবর্তে অস্থায়ীভাবে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়। তবে স্থানীয়দের দাবি ছিল, এই পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। চলতি বর্ষায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রথম ধাক্কাতেই সেটি ভেঙে পড়ে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে।
লক্ষীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, “প্রথম দিকেই ভাঙন দেখা দিলে যদি দুই–এক লাখ টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হতো, তাহলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যেত। কিন্তু দীর্ঘদিন কোনো বরাদ্দ না আসায় পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। গত বছর থেকেই বলা হচ্ছিল বরাদ্দ আসবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বুয়েটের এক বিশেষজ্ঞের পরামর্শে বাঁশের পাইলিং করা হয়েছিল, কিন্তু এটি টেকেনি। ১৪ লাখ টাকার কাজ প্রথম ধাক্কাতেই ধ্বংস হয়ে গেছে।”
এ বিষয়ে এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, গত বছর ভাঙন শুরু হলে এলজিইডির অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও বুয়েটের এক ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শ নেওয়া হয়। তার সুপারিশ অনুযায়ী ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি ও ইউএনও মিলে একটি প্রতিবেদন পাঠিয়েছেন।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার জানান, তিনি সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে একটি প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন বলেন, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ ও ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।