
কুয়েত সেনাবাহিনীর দাপ্তরিক চিঠি এবং নতুন করে ৭৭২ জন লোকবলের চাহিদা থাকা সত্ত্বেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রতা এবং চরম অবহেলার কারণে বিগত ৭ বছর ধরে দেশে কর্মহীন অবস্থায় আটকে আছেন বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ২৫০ জন এসটিএমকে (STMK) সদস্য। সোমবার (২২ জুন) ঢাকা জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে ধরেন ভুক্তভোগী সেনা সদস্যরা।
তারা জানান, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ করোনা মহামারীর সময়ে তারা কুয়েত থেকে বৈধ ছুটিতে বাংলাদেশে আসেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে তারা আর কুয়েতে ফিরতে পারেননি। সে সময় সেনা সদর পিএ পরিদপ্তরের আদেশক্রমে তাদের ‘হোমস্টে’ অবস্থায় অপেক্ষমাণ রাখা হয় এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
কুয়েত সেনাবাহিনীর চিঠি ও বাংলাদেশ সেনা সদরের ভূমিকা: লিফলেটে ভুক্তভোগীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস করে জানান, কুয়েত সেনাবাহিনী তাদের নিজস্ব রাষ্ট্রীয় চিঠি এর মাধ্যমে এই সদস্যদের পুনরায় কুয়েতে কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেওয়ার স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি বার্তা প্রদান করেছিল। কুয়েত কর্তৃপক্ষের আন্তরিক আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সেনা সদরের কার্যকর উদ্যোগের অভাবে তারা কর্মস্থলে ফিরতে পারেননি। উল্টো পিএ পরিদপ্তর প্রতিনিয়ত তাদের মৌখিক আশ্বাস ও দীর্ঘসূত্রতার মাধ্যমে মূল্যবান সময় নষ্ট করেছে।
নতুন চাহিদাতেও অভিজ্ঞদের বঞ্চিত করার অভিযোগ: ভুক্তভোগীরা আরও উদ্বেগজনক একটি তথ্য প্রকাশ করে বলেন, ২০২১ সালের ৫ই অক্টোবর কুয়েত থেকে নতুন করে ৭৭২ জন জনবলের চাহিদা আসার পরও, সেখানে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই পুরনো সদস্যদের না পাঠিয়ে সম্পূর্ণ নতুন জনবল প্রেরণ করা হয়।
আদালতে মামলা এবং লিয়াজোঁ অফিসারের দুর্ব্যবহার: আটকে পড়া সদস্যদের মধ্যে ৩৭ জনের একটি দল সেনা সদরের মিথ্যা আশ্বাসে অতিষ্ঠ হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে মামলা উইথড্র (প্রত্যাহার) করলে সাথে সাথে কুয়েত প্রেরণের প্রলোভন দেখালে তারা সেনা সদরের আনুগত্য মেনে নিয়ে লিয়াজোঁ অফিসারের কাছে মামলার কাগজপত্র জমা দেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কুয়েত প্রেরণের অগ্রগতি জানতে চাইলে লিয়াজোঁ অফিসার তাদের সাথে চরম আকথ্য ভাষায় আচরণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়।
পাসপোর্ট ও আইডি কার্ড জমা নিয়েও বাস্তবায়ন নেই: করোনাকালীন সময়ে অন্যান্য সেক্টরের ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বহাল বা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হলেও, এই ২৫০ জন সদস্য সম্পূর্ণ বঞ্চিত হয়েছেন। পরবর্তীতে কুয়েতে ফেরার সুযোগ সৃষ্টির নামে সেনা সদর কর্তৃপক্ষ তাদের পাসপোর্ট, কুয়েত সিভিল আইডি কার্ড ও কুয়েত সেনা আইডি কার্ড দ্রুত কুয়েতে প্রেরণের আশ্বাস দিয়ে জমা নিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি।
দীর্ঘদিনের এই চরম মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে ইতিমধ্যে তাদের কয়েকজন সহকর্মী মৃত্যুবরণ করেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের নিকট আকুল আবেদন করে নেতৃবৃন্দ, বিগত ৭ বছর ধরে কর্মহীন অবস্থায় থাকা ২৫০টি হতভাগা পরিবারের মানবিক দিক বিবেচনা করে ভুক্তভোগী সদস্যরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ৩টি সুনির্দিষ্ট দাবি পেশ করেন: ১. কুয়েত সেনাবাহিনীর দাপ্তরিক পত্রের (৫-১০/২০২০) আলোকে ২৫০ জন আটকে পড়া সদস্যকে দ্রুত কুয়েত কর্মস্থলে প্রেরণের ব্যবস্থা করার গ্রহণের দাবী করেন।
সেই সাথে জমাকৃত পাসপোর্ট, কুয়েত সিভিল আইডি এবং কুয়েত সেনা আইডি কার্ডের কার্যকারিতা নিশ্চিত করে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং বিগত ৭ বছর ধরে কর্মহীন অবস্থায় থাকা পরিবারগুলোর মানবিক দিক বিবেচনা করে দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক।
Related