বিষাক্ত ধোঁয়ার কারণে নিউইয়র্ক ও আশপাশের এলাকায় বাতাসের গুণগত মান উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে গেছে। স্থানীয় প্রশাসন সাধারণ মানুষকে ঘরে থাকার এবং বাইরে ভারী শারীরিক পরিশ্রম এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছে। অনেকেই নিজেদের সুরক্ষায় মাস্ক ব্যবহার করছেন।
রোববার নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার বিশ্বকাপ ফাইনাল হওয়ার কথা রয়েছে। ম্যাচকে সামনে রেখে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ফিফার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন, যাতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
হোয়াইট হাউসের ওয়ার্ল্ড কাপ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি জানিয়েছেন, আবহাওয়ার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তার আশা, সপ্তাহান্তের মধ্যে বাতাসের মান কিছুটা উন্নত হবে এবং নির্ধারিত সময়েই ফাইনাল আয়োজন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দূষণ বিশেষজ্ঞ মাইকেল পেট্রোনির মতে, বর্তমানে নিউইয়র্কের বাতাসে সারাদিন অবস্থান করা প্রায় ১০টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতিকর হতে পারে। তার ভাষ্য, বাতাসে থাকা অতিক্ষুদ্র দূষিত কণা সহজেই শরীরে প্রবেশ করে রক্তের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। দীর্ঘ সময় এ ধরনের বাতাসে থাকলে শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা, হৃদরোগ এবং ক্যান্সারের ঝুঁকিও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, বিশ্বকাপের ফাইনাল যদি প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলে, তাহলে পুরো সময় খোলা আকাশের নিচে থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বর্তমানে ওই অঞ্চলের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে ওঠানামা করছে, যা সংবেদনশীল মানুষের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্যও অস্বাস্থ্যকর বলে বিবেচিত।
দূষিত বাতাসের প্রভাব ইতোমধ্যেই ক্রীড়াঙ্গনে পড়েছে। চলতি সপ্তাহে শিকাগো ফায়ার ও ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসের একটি এমএলএস ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। তবে কুইন্সে গোথাম সিএফ ও ওয়াশিংটন স্পিরিটের এনডব্লিউএসএল ম্যাচ দূষিত বাতাসের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ শেষে ওয়াশিংটন স্পিরিটের তারকা খেলোয়াড় ট্রিনিটি রডম্যান বলেন, এমন পরিস্থিতিতে ম্যাচ আয়োজন না করাই ভালো হতো।
এনডব্লিউএসএলের নিয়ম অনুযায়ী বাতাসের মান খারাপ হলে প্রতি অর্ধে অতিরিক্ত বিরতি দেওয়া হয়। অন্যদিকে বিশ্বকাপে সাধারণত প্রতি অর্ধে একটি করে হাইড্রেশন ব্রেক রাখা হয়। পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে ফিফা প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে।
মেটলাইফ স্টেডিয়াম খোলা আকাশের নিচে হওয়ায় বাতাসের মান নিয়ে নজর রাখা হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শনিবার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে বাতাসে ছড়িয়ে থাকা ধোঁয়া কিছুটা কমে যেতে পারে এবং রোববারের মধ্যে পরিবেশের উন্নতি হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে স্পেন দল ইতোমধ্যে নিউইয়র্ক এলাকায় পৌঁছে অনুশীলন শুরু করেছে। অন্যদিকে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা আর্জেন্টিনা দল জর্জিয়ায় অবস্থান করছে। শুক্রবার তাদের নিউ জার্সিতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এখন সবার নজর একটাই, বাতাসের মান স্বাভাবিক হয়ে নির্ধারিত সময়েই যেন বিশ্বকাপের মহারণ অনুষ্ঠিত হতে পারে।























