


একসময়ের শান্ত ও নিরিবিলি ছিল রংপুরের হারাগাছ অঞ্চল যেখানে একদিন সন্ধ্যা নামে পাখির ডাকে আজ পরিণত হয়েছে এক ‘বিষাক্ত কারখানাপল্লিতে’। রংপুরে হারাগাছ আবাসিক এলাকায় এখন মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একাধিক তামাক ক্রাসিং ও মিক্সার মিল। এই মিলগুলোয় তামাকের গুঁড়া আর রাসায়নিক কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে ধীরে ধীরে ঢেকে দিচ্ছে পুরো এলাকার আকাশ। কেউ তা দেখতে পায় না, কিন্তু শ্বাস নিলে বুঝতে পারে বাতাসে কোনো অনিষ্ট আছে। এলাকাটিতে এখন শত শত পরিবার, হাজারো নারী, শিশু ও প্রবীণের বসবাস।
স্কুলের পাশে, মানুষের জানালার ওপাশেই তামাক গুঁড়া মেশানো হয় বড়ো বড়ো মেশিনে। দিনের পর দিন সেই ধোঁয়া মিশে যায় চারপাশের বাতাসে। স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ ও অ্যালার্জির উপসর্গ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। হারাগাছ ছোটপুল সৎবাজার এলাকা সংলগ্ন আশরাফুল ইসলামের তামাক ক্রাসিং কারখানা যেখানে তামাক সংরক্ষণ, ক্রাসিং ও মিক্সিংয়ের কাজ চলে পুরোদমে। সরেজমিনে প্রবেশ করলে দেখা যায়, বাতাসে ভাসমান গুঁড়োতে শ্রমিকদের চোখ লাল হয়ে আছে।
তাদের কেউ মাস্ক পরে না, কেউ জানে না কীসে তারা আক্রান্ত হতে পারে। কারখানায় নেই কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা, নেই বায়ু পরিশোধন যন্ত্র। শুধু গুঁড়া, ধোঁয়া আর নিঃশব্দ হাহাকার। প্রশাসনের নীরবতা, মালিকের দম্ভ। পরিবেশ অধিদপ্তর রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক আব্দুস সালাম সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন ‘আমরা বিষয়টি দেখছি।’ কিন্তু কতগুলো তামাক মিল বর্তমানে কার্যক্রম চালাচ্ছে, কিংবা কোনো মামলার তথ্য কিছুই দিতে পারেননি।
বাংলাদেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে মৃত্যু হয় প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার মানুষের। আরও ১৫ লক্ষাধিক মানুষ ভুগছেন ফুসফুস ক্যান্সার, মুখগহ্বর ক্যান্সার, হৃদরোগ ও স্ট্রোকে। রংপুরের এই এলাকাগুলোয় সেই মৃত্যুর ছায়া নেমে এসেছে অন্যভাবে নিঃশ্বাসে বিষ ঢুকে যাচ্ছে, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শরীরে রোপিত হচ্ছে রোগের বীজ। ‘জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল থেকে এই তামাক কারখানাগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নেওয়া জরুরি।