1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
মিঠাপুকুরে বৃদ্ধার লালসার শিকার ৯ বছরের শিশু, থানায় মামলা | দৈনিক সকালের বাণী
রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩৪ অপরাহ্ন

মিঠাপুকুরে বৃদ্ধার লালসার শিকার ৯ বছরের শিশু, থানায় মামলা

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬
  • ১৮ জন দেখেছেন

ক্ষুধার জ্বালায় দোকানে মুড়ি কিনতে গিয়ে এক বৃদ্ধার লালসার শিকার হয়েছেন ৯ বছরের এক শিশু। ঘটনার দিন সকালে ওই দোকানে শিশুটি মুড়ি কিনতে গেলে তার মুখ চেপেধরে একটি পরিত্যক্ত টিনচালা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার ইমাদপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামে। ধর্ষণ চেষ্টাকারী আবুল হোসেন (৬৫) ইমাদপুর ইউনিয়নের মাঝিপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল গফুরের ছেলে। বৃদ্ধের বাড়ির পাশে একটি ছোট মুদির দোকান রয়েছে।

ঘটনার দিন বৃষ্টি ছিল এই সুযোগে দোকানে বসে থাকা বৃদ্ধ শিশুটির মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে অমানবিক নির্যাতন চালায়। মাঝিপাড়া গ্রাম থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে বৈরাতীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র রয়েছে। কিন্তু ঘটনার ৫ দিন অতিবাহিত হলেও ঘটনাস্থলে যায়নি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে পুলিশ স্থানীয় একটি বাজারে গিয়ে উভয় পক্ষকে আপোষের পরামর্শ দেয়। পুলিশের এমন ভূমিকায় সংখ্যালঘুদের মাঝে চরম চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অভিযুক্ত বৃদ্ধ আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে এর আগেও প্রতিবেশী এক যুবকের স্ত্রীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ৩ বছর আগে যুবকের স্ত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, উপজেলার মাঝিগ্রামে প্রায় ৩’শ টি সংখ্যালঘু পরিবার রয়েছে। গ্রামটির বেশিরভাগ লোকজনই মৎস্যজীবী ও নিম্ন আয়ের। নির্যাতিত শিশুর মা নেই, প্রায় ৩ বছর আগে মৃত্যু হয়। বাবা ভবঘুরে হওয়ায় জরাজীর্ণ একটি টিনচালা ঘরে কোনোরকমে বসবাস করেন তারা। ঘটনার দিন গত ২০ জুলাই সকাল ১১ টার দিকে ক্ষুধার জ্বালায় ছটফট করতে থাকা ছোট্ট শিশুটি একই গ্রামের আবুল হোসেনের দোকানে মুড়ি কিনতে গেলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায় দোকানদার আবুল। শিশুটির মুখ চেপে ধরে ওই বৃদ্ধের বাড়ির পাশে একটি ফাঁকা বাড়িতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন বৃদ্ধ দোকানদার।
ঘটনার সময় চিৎকার শুনে অস্বাভাবিক অবস্থায় শিশুটিকে উদ্ধার করেন এলাকাবাসী।

নির্যাতিত শিশুটি সংখ্যালঘু পরিবারের হওয়ায় আইনগত সহায়তা নিয়েও সংশয় দেখা দেয়। বিচারহীনতায় ৫ দিন অতিবাহিত হওয়ার পর তথ্য পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সকালের বাণীর প্রতিনিধি তথ্য সংগ্রহ করে ঘটনার বিষয়ে পুলিশের কাছে জানতে চাইলে অসন্তোষজনক আচরণ করেন বৈরাতীহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক ফজলুর রহমান। তিনি সাংবাদিককে বাদী হয়ে মামলা করতে বলেন। এদিকে স্থানীয়দের ম্যানেজ করে রফাদফার চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত বৃদ্ধ আবুল হোসেন। ঘটনাকে ঘিরে ওই এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে ঘটনার ৫ দিন পর শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে মিঠাপুকুর থানা পুলিশ নির্যাতিত শিশুকে উদ্ধার করে ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সাপোর্ট সেন্টারে নিয়ে তদন্ত শুরু করেন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ফুল বানু বেগম (ফুলো) বলেন, আমি শিশুটির চিৎকার শুনে ওই বাড়িতে গিয়ে দেখি আবুল হোসেন শিশুটির সাথে খারাপ কাজ করছে। পরে আমি ডাকাডাকি করলে শিশুটিকে আবুল ছেড়ে দেওয়া মাত্র সে কান্না করতে করতে বের হয়ে আসে। ওই সময় শিশুটি অস্বাভাবিক এবং শরীরে মাটি লেগে ছিল। প্রতিবেশী রাম চন্দ্র দাস বলেন, শিশুটির মা নেই। বাপটাও ভবঘুরে। ওই দোকানি আবুল এমন কাজ করলো? শিশুটি মুড়ি আনতে গেল আর ওয় খারাপ কাজ করলো। এলাকার সবাই ঘটনা জানে। আমরা হিন্দু মানুষ। হামার বিচার নাই বাবা, খালি ভয় দেখায়। নির্যাতিত শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার খিদা লাগছিল দোকানে মুড়ি কিনতে গেছলাম। ওই দাদু আবুল খারাপ কাজ করছে। চিৎকার করতে ধরছি মুখ চেপে ধরছে। মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. এরশাদ জানান, শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামি গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )