1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে সার উৎপাদনে বড় ধাক্কা, আমনে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা | দৈনিক সকালের বাণী
সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৮:০০ অপরাহ্ন

গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে সার উৎপাদনে বড় ধাক্কা, আমনে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

সকালের বাণী ডেস্ক
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬
  • ৬ জন দেখেছেন
চট্টগ্রামে চারটি সার কারখানার মধ্যে তিনটিতে উৎপাদন স্বাভাবিক নেই। চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কাঁচামাল সংকটে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) উৎপাদনও বন্ধ। অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত সিইউএফএল গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর আগেও গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।

সিইউএফএলের সাম্প্রতিক উৎপাদন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কারখানাটির প্রধান রসায়নবিদ উত্তম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সিইউএফএলে প্রায় ৬৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে চলতি অর্থ বছরে উৎপাদন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন পর্যন্ত হতে পারত বলে জানান তিনি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই কারখানা দেশের কৃষিখাতে ব্যবহৃত ডিএপি সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানা সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির জন্য গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে। ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহের কার্যাদেশ পায় মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী জুনের মধ্যেই কাঁচামাল সরবরাহের কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় কাঁচামাল সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়।

এ বিষয়ে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, ফসফরিক অ্যাসিড সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

অন্যদিকে, কর্ণফুলী উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের বৃহত্তম যৌথ বিনিয়োগের সার কারখানা কাফকোতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কাফকোর দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

কাফকোর চিফ পার্সোনেল আবদুল্লাহ ফারুক ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমাদের কারখানায় উৎপাদন চালু আছে। তবে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বোরো ধানের আবাদ। উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সেচের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে অনেক জমি বোরো চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন কমার পাশাপাশি কৃষকদের আমন ধানের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

কৃষি অফিসের সূত্র অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকায় এ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি অফিস সূত্র অনুযায়ী, জেলায় সারের চাহিদা রয়েছে ইউরিয়া ৪৭ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন, টিএসপি ২৪ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন, ডিএপি ২৫ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১২ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন।

তবে বিভিন্ন উপজেলার মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, বর্তমানে গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে চাহিদার সময়ে সার পেতে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন তারা।

কৃষকদের ভাষ্য, আমন মৌসুমে জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করা না গেলে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু মজুতের পরিমাণ নয়, উপজেলা পর্যায়ে ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা না গেলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম সংকট কিংবা বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

আনোয়ারা ও বোয়ালখালী উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, বোরো আবাদ কমে যাওয়ায় আমনই এখন অনেক কৃষকের প্রধান ভরসা। ফলে আমন মৌসুমে সারের সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তা সরাসরি কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ধানের ফলনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, আমন মৌসুম শুরুর আগেই ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সারের মজুত ও বিতরণব্যবস্থা কঠোরভাবে তদারকি করা হোক।

এদিকে, দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে সার সংকটের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গত ২৮ জুলাই গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সার নিয়ে সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও প্রাপ্যতা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমা ঢাকা পোস্টকে বলেন, চট্টগ্রামে সার সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। বর্তমানে যে পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত তিন মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )