জানা গেছে, গত ৩০ আগস্ট বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সাথে ওই শিক্ষক অশ্লীল আচরণ করেছেন – এমন অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীর অভিভাবক। এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদা বেগমের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগ পাওয়ার পর যথাযথ ব্যবস্থা নিতে গড়িমসির এবং অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক রেয়াজুল ইসলামকে বিদ্যালয় থেকে সরিয়ে দেয়ার অভিযোগ প্রধান শিক্ষককের বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে স্থানীয় জনসাধারণ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে যায় গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদসহ সঙ্গীয় সকলকে অবরুদ্ধ করে রাখেন ।
ঘটনাটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রংপুরকে জানানো হলে, বিষয়টি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় । পরে গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তাৎক্ষণিক প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. রেয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, রংপুরের ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের অফিস আদেশে বলা হয়েছে, ছালাপাক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. রেয়াজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ‘Bad touch’ করার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
অফিস আদেশে আরও বলা হয়, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৩৯(১) ধারা অনুযায়ী মো. রেয়াজুল ইসলামকে ২ সেপ্টেম্বর থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা প্রাপ্য হবেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রনি বলেন, “শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শিক্ষা বিভাগের অন্যতম দায়িত্ব। কোনো শিক্ষক যদি শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেন, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা চাই।”
লিমন বলেন, “শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছে অভিভাবকের মতো। তাঁদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বিষয়টি ধামাচাপা না দিয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।”
স্থানীয় মাহাতাব বলেন, “এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ধরনের অভিযোগ ছিল,যেহেতু তিনি বারংবার একই ঘটনায় অভিযুক্ত, তাহলে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা উচিত।শুধু সাময়িক বরখাস্ত নয়, স্থায়ী বরখাস্তের মাধ্যমে চাকুরীচ্যুত করতে হবে।”
গঙ্গাচড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শায়লা জেসমিন সাঈদ বলেন, “বিষয়টি আমরা অবগত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে গেলে আমাদেরও অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবগত করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. রেয়াজুল ইসলামের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তবে এবিষয়ে এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা বলেন,সহকারী শিক্ষক মো: রেয়াজুল ইসলামের মতো বিতর্কিত শিক্ষককে চাকুরীচ্যুত করতে হবে পাশাপাশি তার মতো বিতর্কিত ব্যক্তিকে রাজবল্লভ দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদ থেকেও অপসারণের দাবী জানান তারা।