1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
প্রায় ৩০ বছর পর সড়ক সংস্কার | দৈনিক সকালের বাণী
বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৩২ অপরাহ্ন

প্রায় ৩০ বছর পর সড়ক সংস্কার

কুড়িগ্রাম অফিস
  • আপলোডের সময় : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২০ জন দেখেছেন
বৃষ্টি হলেই সড়কে পানি জমত। কাদায় পা পিছলে চলাচল করতে হতো। শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের দুর্ভোগ ছিল বেশি। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি থেকে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ত। এভাবে প্রায় ৩০ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার থানাহাট ইউনিয়নের ছরারপাড় এলাকার বাসিন্দাদের।

সম্প্রতি সরকারি বরাদ্দে সড়কটিতে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে। এতে আশপাশের ১৫টি পরিবারসহ এলাকার প্রায় ২০০ পরিবারের মানুষের চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা এখন সড়কটি পাকা করার দাবি জানাচ্ছেন।

গৃহবধূ আশা বেগম বলেন, দীর্ঘদিন সড়কটি নিচু থাকায় বর্ষায় দুর্ভোগ বেড়ে যেত। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে সড়কটি কাদায় পরিণত হতো। এখন মাটি ফেলে উঁচু করায় চলাচলে আগের চেয়ে সুবিধা হয়েছে।

সুমি বেগম, আমেনা খাতুন ও মোখলেছুর নামের স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বৃষ্টি হলে সড়কে পানি ও কাদা জমে থাকত। বাড়ি থেকে বের হতে কষ্ট হতো। সড়কটি উঁচু করায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ (কাবিখা/টিআর) প্রকল্পের আওতায় সড়কটিতে মাটি ফেলে উঁচু করা হয়েছে।

ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান ও সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. আদুরী বেগম বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন নিচু থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই দুর্ভোগ হতো। সরকারি বরাদ্দে মাটি ফেলে উঁচু করায় মানুষের চলাচলে সুবিধা হয়েছে। তবে সড়কটি পাকা করা প্রয়োজন।

৬ ইউনিয়নে ১৪০ প্রকল্প

থানাহাট ইউনিয়নের এই সড়কের মতো চিলমারীর বিভিন্ন ইউনিয়নে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে কাবিখা, কাবিটা ও টিআর প্রকল্পের আওতায় ১৪০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ছয় ইউনিয়নের মধ্যে থানাহাটে সবচেয়ে বেশি ৪৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। এ ছাড়া রমনায় ২৬টি, নয়ারহাটে ২১টি, রাণীগঞ্জে ১৮টি, অষ্টমীরচরে ১৯টি এবং চিলমারী ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে সড়কে মাটি ভরাট, সড়ক সংস্কার, সিসি ঢালাই ও গাইডওয়াল নির্মাণ।

সিসি ঢালাইয়ে বদলেছে চলাচল

সরেজমিনে রমনা ইউনিয়নের সরকারবাড়ি গ্রামে দেখা যায়, জব্বারের বাড়ি থেকে গোলামের বাড়ি হয়ে পিসিং রাস্তা পর্যন্ত সড়কে সিসি ঢালাই করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটিতে পানি ও কাদা জমত। এখন সিসি ঢালাই হওয়ায় চলাচলে সমস্যা হচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাবে, সড়কটির দুই পাশের প্রায় ১৫০ পরিবারসহ এলাকার প্রায় দুই হাজার মানুষ এর সুফল পাচ্ছেন।

ওই এলাকার আনসার, আতাউর রহমান, আব্দুল খালেক ও খাইরুনসহ ক‌য়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টির সময় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ত। এখন সিসি ঢালাই হওয়ায় সেই সমস্যা কমেছে।

রমনা ইউনিয়নের সোনারীপাড়া আজমের বাড়ি থেকে রেজাউলের বাড়ি পর্যন্ত সড়ক এবং দুই থানার মোড় থেকে ফিরোজার বাড়ি হয়ে পূর্ব দিকে আমজাদের বাড়ি পর্যন্ত সড়কেও উন্নয়নকাজ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে গাইডওয়াল নির্মাণ ও সিসি ঢালাই করা হয়েছে।

রাণীগঞ্জ ইউনিয়নের বাবুয়ারপাড় গ্রামের সিসি সড়ক থেকে লিটনের বাড়ি-সংলগ্ন সড়ক সংস্কারসহ বিভিন্ন এলাকাতেও প্রকল্পের আওতায় কাজ হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এতে চলাচলের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহনেও সুবিধা হয়েছে।

জয়নাল আবেদীন ও আব্দুল জলিল নামের দুই বাসিন্দা বলেন, আগে এসব সড়কে চলাচলে অনেক কষ্ট হতো। এখন সড়কের কাজ হওয়ায় মানুষের চলাচল সহজ হয়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহনেও সময় ও শ্রম কম লাগছে।

চিলমারী ইউনিয়নের কড়াই বরিশাল মৌজার মহিজলের বাড়ি থেকে দক্ষিণে আলমের বাড়ি পর্যন্ত সড়কসহ ইউনিয়নে ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে। নয়ারহাট ও অষ্টমীরচর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকাতেও সড়ক সংস্কার, মাটি ভরাট, সিসি ঢালাই ও গাইডওয়াল নির্মাণ করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এসব কাজের ফলে গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা কিছুটা উন্নত হয়েছে। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত ও দৈনন্দিন চলাচলে সুবিধা হয়েছে। তবে মাটির সড়কগুলো টেকসই করতে পর্যায়ক্রমে পাকা করার দাবি তাঁদের।

ইউপি সদস্য রুকুনুজ্জামান স্বপন বলেন, টিআর, কাবিখা, কাবিটাসহ বিভিন্ন সরকারি বরাদ্দে এলাকার উন্নয়ন শুরু হয়েছে। মানুষের পাশে থেকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

চিলমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল বলেন, সরকারি দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে পালন করাই তাঁর লক্ষ্য। উন্নয়নকাজ জনগণের সম্পদ। তাই কাজের মান ও সঠিক বাস্তবায়নের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )