গরু ছাগলের বিচরণ ক্ষেত্র কমে যাওয়া, শুকনো খড়ের মজুদ না থাকা এবং মাঠে ঘাস না থাকায় সারা দেশের ন্যায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে এখন গো-খাদ্য হিসেবে কাঁচা খড়ের চাহিদা অনেক। এ কারণে আগাম জাতের আমন ধান কেটে কৃষকরা দ্রুত ধান ছাড়িয়ে কাঁচা খড় বাজারে বিক্রি করে দিচ্ছেন।
কয়েক বছর আগেও জমির মালিকরা এসব খড় মানুষকে বিনামূল্যে দিয়ে দিতেন। তবে এখন সময় বদলে গেছে। খড়ও হয়েছে মূল্যবান বস্তু। বর্ষা মৌসুমে দেশে উত্তর ও দক্ষিন অঞ্চলে ব্যাপক বন্যার কারনে মাঠে ঘাস না থাকায় এখন খড়ের চাহিদা ব্যাপক। তাই এখন আর কেউ খড় বিনা মুল্যে দিতে রাজি নন। ফলে ধান কাটা শেষে এখন কৃষকদের মধ্যে খড় বিক্রির ধুম পরেছে।
সোমবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, আমন মৌসুমের আগাম জাতের ধান কাটা শুরু হয়েছে। তবে এখন ধান বিক্রির চেয়ে খড় বিক্রি প্রতি কৃষকদের আগ্রহ বেশি। কারণ কিছুদিন পরেও ধান বিক্রি করা যাবে। তবে দ্রুত কাঁচা খড় বিক্রি করা গেলে বাড়তি আয়ের সুযোগ পাবেন কৃষকরা।
উপজেলার পাটশাও গ্রামে কৃষক আবু হানিফ বলেন, কয়েক বছর আগেও আমরা খড় মানুষকে ফাও দিয়ে দিতাম। এখন আর কেউ ফাও চাইলে দেই না। ধান দিতে রাজি আছি কিন্তু খড় দিতে রাজি নই। খড়ের দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা ধান চাষে লাভবান হচ্ছি।
উপজেলার মরিচা গ্রামের কৃষক আবুল হাসান বলেন, এ বছর ৩ বিঘা জমি থেকে ১৫’শ খড়ের আঁটি পেয়েছি। নিজের বাড়ির গরুর জন্য কিছু রেখে বাকি প্রতি এক মুঠো আঁটি ৩ টাকায় বিক্রি করছি।