


সবুজের মাঝখানে সাদা বেগুনি ও হালকা গোলাপি রংগে বিভিন্ন খাল বিল ডোবা ও জলাশয়ে মুগ্ধতা ছড়িয়ে ফুঁটে আছে প্রাকৃতিক ভাবে গড়ে ওঠা কচুরিপানা ফুল।দেখতে মনে হয় যেন ফুলেল চাদরে ঢেকে রাখা হচ্ছে জলাশয়গুলো।প্রকৃতির এ সব ফুলের অপরুপ সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হচ্ছে নানা শ্রেনির মানুষ।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ছিনাই ইউনিয়নের সিঙ্গিমারী এলাকার রাস্তার পাশে মুক্ত জলাশয়ে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কচরিপানার ফুলগুলো।রাস্তার পাশে এই মনোমুগ্ধকর কচরিপানার ফুলের মেলার মনোরম পরিবেশ দেখে মানুষের মন জড়িয়ে যায়।উপজেলার বিভিন্ন এলাকার খাল-বিল ও জলাশয়ে কচুরিপানা ফুলের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখা গেছে।চকচকে সবুজ ডিম্বাকৃতির পাতা বিশিষ্ট কচুরিপানা পানির উপরিভাগে জন্মায় এ ফুল।একটি কান্ডে ছয়টি পাপড়ি বিশিষ্ট ফুলের থোকা থাকে।এ উদ্ভিদ দ্রুত বংশবিস্তার করে এবং মানুষ ও প্রকৃতির অনেক উপকারে আসে।এটি দেশিয় মাছের বংশ বিস্তার ও জলাশয়ের পানি ঠান্ডা রাখতে সহায়তা করে। কিছু মাছ এটি খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে। এটি থেকে তৈরি জৈব সার কৃষিকাজে রাসায়নিক সারের বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
পানির উপর স্তুপ করে এর উপর সবজি চাষ করা হয়।এছাড়াও এটি গো খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়। বিভিন্ন জলাশয়ে ফুটন্ত এসব ফুলের সৌন্দর্য যাতায়াতের পথে হিমোয়িত হচ্ছেন ফুলপ্রেমী মানুষসহ পথচারীরা।বিশেষ করে কোমল মতি শিশুদের খেলনা হিসাবে ব্যবহৃত হচ্ছে এ ফুল।অনেক কিশোর কিশোরী এ ফুলের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফুলপ্রেমী স্কুল শিক্ষিকা সেলিনা বেগম বলেন,মুক্ত জলাশয়ে এক সাথে ফুল ফুঁটে থাকার যে সৌন্দর্য যা অন্য কোন ফুল থেকে পাওয়া যায় না।রাজারহাট উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার হৈমন্তী রাণী বলেন, কচুরিপানা ভাসমান উদ্ভিদ।কচুরিপানার জৈব সার ফসলের জন্য খুবই উপকারী।বর্তমানে এই কচুরিপানার জৈব সার বাণিজ্যিক ভাবেও বেচাকেনা হচ্ছে।তাই কচুরিপানার সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা দরকার।