সারাদেশ

পঞ্চগড়ে তীব্র শৈতপ্রবাহ, মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

সকালের বাণী ডেস্ক   পঞ্চগড়

২৬ জানুয়ারী ২০২৪


তীব্র ঘন কুয়াশা
তীব্র ঘন কুয়াশা | ছবি: প্রতিনিধি

উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে তীব্র ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাসে বেড়েছে শীতের দাপট। জেলার উপর দিয়ে গত তিনদিন ধরে মৃদু শৈতপ্রবাহ বয়ে গেলেও শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তীব্র শৈতপ্রবাহ। সন্ধ্যার  পর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায় পথঘাট সহ  চারদিকে। রাত থেকে বৃষ্টির মত ঝরছে কুয়াশা। সকাল থেকে মহাসড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করছে যানবাহনগুলো। গত কয়েকদিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমে শুক্রবার সকাল ৯টায় জেলায় মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৫ দশমিক ৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস। এর আগে সকাল ৬টায় একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। যা গতকাল সকাল ৯ টায় জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়  ৮ দশমিক ৬  ডিগ্রি সেলসিয়াস।  দিন এবং রাতের তাপমাত্রা ৫ থেকে ১৬ ডিগ্রীতে ওঠানামা করছে। তবে গত দুইদিন ধরে দিনের বেলা সূর্যের দেখা মেলায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। কিন্তু সূর্যের কাঙ্খিত উত্তাপ না থাকায় দিনভর শীত অনুভূত হয়। বেলা গড়িয়ে বিকেল হতেই আবারও শুরু হয় শীতের প্রকোপ।এদিকে শীত মোকাবেলায় খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। তবে মাঘের এই শীতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শ্রমজীবী নিম্ন আয়ের মানুষেরা। শীতের কারণে সময় মতো কাজে যোগ দিতে পারছেন না তারা। ফলে অনেক সময় কাজ না পেয়ে বাড়ি ফিরতে হয় তাদের। বোদা উপজেলার ময়দানদিঘী ইউনিয়নের নলেহাপাড়া এলাকার দিনমজুর সুবল চন্দ্র রায় বলেন, পঞ্চগড়ে গত কয়েকদিন ধরে খুবই শীতের দাপট। ঘন কুয়াশা আর বাতাসে হাত পা কোঁকড়া হয়ে যায়। ঘর থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু কাজ না করলে খাব কি। কাজের সন্ধানে তীব্র শীত উপেক্ষা করে বাইরে বের হয়েছি। একই এলাকার তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী অনিতা রাণী বলেন, পঞ্চগড়ে কত কিছুদিন ধরে খুব শীত। সকালবেলা যখন পড়তে বসি। খুবই ঠান্ডা লাগে। এটার কারণে তো স্কুল বন্ধ। তাই বাসায় বসে পড়াশোনা করছি। এদিকে তীব্র শীতে আলু মরিচ সরিষা সহ বড় ধানের বীজতলার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। শীত মোকাবেলায় কীটনাশক স্প্রে করছেন কৃষকেরা। কৃষক ফটিক চন্দ্র রায় বলেন, তীব্র শীতের কারণে আলু মরিচ সহ বোরো ধানের বীজতলার ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। বেশি করে কীটনাশক স্প্রে করেও ঠেকানো যাচ্ছে না। আলুতে লেড ব্রাইট ধরেছে। গাছের পাতাগুলো হলদে ও কুকঁড়িয়ে যাচ্ছে। মরিচ গাছেরও যেন চেহারা নেই। বেশি কীটনাশক স্প্রে করাতে আমাদের খরচ বেশি হচ্ছে। কিন্তু উপায় তো নেই ফসল তো বাঁচাতে হবে। 

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাসেল শাহ বলেন, ‘এ মৌসুমে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে আজ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়। উত্তর-পূর্ব বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বায়ু প্রবাহিত হওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরো জানুয়ারিজুড়ে তাপমাত্রা এমন থাকবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের পর থেকে আস্তে আস্তে শীত কমতে থাকবে। এদিকে শীতার্তদের শীত মোকাবেলায় জেলায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ অব্যাহত রয়েছে জেলা জুড়ে। জেলা প্রশাসক জহিরুল ইসলাম বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পাওয়া শীত বস্ত্রগুলো উপজেলার মাধ্যমে ইউনিয়ন পর্যায়ে বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার শীতবস্ত্র পাওয়া গেছে। সামনে আরো শীতবস্ত্র বরাদ্দ এলে পর্যায়ক্রমে তা শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে। 

98