
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ২২০ ফিট লম্বা ভেঙে যাওয়া বাঁশের সাঁকোটি গ্রামবাসীর উদ্যোগে পূর্ণ: নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এদিকে অর্থের অভাবে সাঁকো পূর্ণ:নির্মাণের কাজ বন্ধ হওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দুপাড়ের হাজারও মানুষের পাড়াপাড়।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকায় নবিউলের ঘাটে বারোমাসিয়া (বাণিদাহ) নদীতে ২২০ ফুট লম্বা ভেঙে যাওয়া বাঁশের সাঁকোটির পূর্ণ : নিমার্ণের কাজ বন্ধ হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে দুপাড়ের বাসিন্দারা। ফলে উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত শিমুলবাড়ী, চরগোরকমন্ডল, ঝাঁউকুটি, পশ্চিম ফুলমতি, নাওডাঙ্গা ও শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের হকবাজার এবং পাশ্ববর্তী লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলাহাট ইউনিয়নের চরখারুয়া এবং খারুয়াসহ ৮ গ্রামের হাজারও মানুষ এখনও নদী পাড়াপাড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকার ওবায়দুল হক ও মাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বরাদ্দ না থাকায় বাধ্য হয়ে দুপাড়ের বাসিন্দাদের নিজস্ব উদ্যোগে মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাঁশ সংগ্রহ করে এক সপ্তাহ আগে ভাঙা সাঁকো পূর্ণ:নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এখন অর্থের অভাবে দুই থেকে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যে দুপাড়ের বাসিন্দাদের কাছে কমপক্ষে ৫০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০০ করে আদায় করে পূর্ণরায় কাজ শুরু করা হবে। তারা আরও জানান সাঁকোটি পূর্ণ:নির্মাণের কাজ শেষ হতে কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ দিন লাগবে। সাঁকো নির্মাণের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত দুপাড়ের বাসিন্দাদের এক বুক নদীর পানি পাড়ি দিয়ে পারাপার করতে হবে।
কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকার ঝাঁউকুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম জানান, বাঁশের সাকো নির্মাণের কাজ বন্ধ হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। তিনি এই সাকোটি নির্মাণ কাজে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চেয়েছেন। কিশামত শিমুলবাড়ী এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য, আমিনুল হক জানান, তীব্র স্রোতে বাঁশের সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার আমাদের পাড়াপাড়ে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। এরপর কোথাও কোন সহযোগিতা না পেয়ে বাধ্য দুপাড়ের বাসিন্দারা মিলে বাঁশ সংগ্রহ করে ভাঙা সাঁকোটির পূর্ণ:নির্মাণের করা শুরু করেছি। তবে অর্থের অভাবে দুই দিন থেকে সাঁকোটি পূর্ণ:নির্মাণের কাজ বন্ধ। এখন ঝুঁকি নিয়ে পাড়াপাড় করেছে হাজারও মানুষ। এ পর্যন্ত ৫শ বাঁশ ও নগদ একলাখ টাকা খরচ হয়েছে। আরও বাঁশসহ এক থেকে দেড় লাখ টাকার মতো লাগবে। এ জন্য তিনি সাঁকো নির্মাণের কাজ বন্ধ হওয়ায় সাঁকো নির্মাণে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সিরাজউদ্দৌলা জানান, বাঁশের সাঁকো পূর্ণ:নির্মাণের জন্য বর্তমান কোন বরাদ্দ নেই। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেহেনুমা তারান্নুম এর মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দেয়া হলে তিনি রিসিভ করেনি বলে তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
Related