
ধর্ষণের বিচার চাইতে গিয়ে এখন উল্টো খুনের হুমকির মুখে পড়েছেন এক নারী। জামিনে বেরিয়ে আসা আসামিদের অব্যাহত হুমকিতে নিজের শিশুসন্তান ও স্বামীকে নিয়ে বাড়িছাড়া হয়েছেন তিনি। গত কয়েক দিন ধরে প্রাণভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী থানার মাদারগঞ্জ কোনপাড়ার ওই ভুক্তভোগী পরিবার। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই নারী।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ মে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, ওই দিন গভীর রাতে এলাকার মো. জুয়েল (২৫) নামে এক যুবক তাঁর বাড়িতে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এই ঘটনায় তিনি গত ১৬ মে জুয়েলকে প্রধান আসামি এবং আরও দুজনকে সহযোগী হিসেবে উল্লেখ করে ভূল্লী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মামলার প্রধান আসামি জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালেও গত ৪ জুন তিনি জামিনে মুক্তি পান। এরপর মামলার অন্য দুই আসামি সহিদুল ইসলাম (৫৫) ও শিউলি বেগমও (৪৫) আদালত থেকে জামিন পান।
ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই আসামিরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করছিল। সর্বশেষ গত ২৫ জুন দুপুর ২টার দিকে প্রধান আসামি জুয়েল তাঁর বাড়ির সামনে এসে পথ আটকে তাঁকে সরাসরি হত্যার হুমকি দেন।
জিডিতে ওই নারী উল্লেখ করেন, জুয়েল তাঁকে বলেন, “বেশি বাড়াবাড়ি করছিস। মামলা না তুললে তোকে খুন করেই আবার জেলে যাব।” এ সময় অন্য আসামিরাও তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার হুমকি দেয়।
ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন প্রতিবেশী পারভীন আক্তার ও রফিকুল ইসলাম। পারভীন আক্তার বলেন, “আমরা চিৎকার শুনে এগিয়ে যাই। জুয়েল তখন খুব বাজে ভাষায় গালাগাল করছিল আর বলছিল মামলা তুলে না নিলে দেখে নেবে। আমরা কয়েকজন জড়ো হওয়ায় ওরা চলে যায়।”
এই ঘটনার পর থেকেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করে পরিবারটি। ভুক্তভোগী নারী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “হুমকির পর দুই দিন বাড়িতেই ঢুকতে পারিনি। ২৮ জুন রাতে চুপিচুপি বাড়ি ফিরেছিলাম। কিন্তু পরদিন সকালে আবার ভয় শুরু হয়। আমার ছোট বাচ্চাটার মুখের দিকে তাকিয়ে আর ঝুঁকি নিতে পারিনি। নিজের বাড়ি ছেড়ে এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছি। আমরা কি বিচার পাব না?”
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মামলার ২ নম্বর আসামি সহিদুল ইসলামের বড় ভাই জুয়েল মুঠোফোনে বলেন, “আমরা এ ধরনের কোনো কাজ করিনি।
এ বিষয়ে ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “ভুক্তভোগী নারীর পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। আমরা হুমকির অভিযোগটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি এবং তদন্ত শুরু করেছি।
Related