


ঠাকুরগাঁও রাণীশংকৈল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) নুরনবী সরকারকে মারপিট দেওয়ার পূর্বেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগমের সাথে ফোনে কথা বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন। সেখানে তিনি পিআইও’র বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ তুলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। সে সময় ইউএনও খাদিজা বেগম বলেন, তিনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে বলেছেন। কিন্তু কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না। প্রতি উত্তরে ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা বলেন, যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তাহলে আপনি চুপ থাকবেন বলেন, সে সময় ইউএন মুচকি হেসে বলেন, চুপ থাকবো। ইউএনও ও ছাত্রঅধিকার পরিষদের নেতার এমন একটি কথোপকথনের অডিও সম্প্রীতি ভাইরাল হয়েছে।
গত ৭ এপ্রিল রাতে পিআইও’র কার্যালয়ে গিয়ে মারপিট করেন ছাত্রঅধিকার পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন,উপজেলা গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি সোহরাব আলী,সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী। এ ঘটনায় নুরনবী সরকার বাদী হয়ে ওই তিন নেতাসহ সংবাদকর্মী রাকিব ফেরদৌস ও জিয়াউর রহমানের নামে সরকারী কাজে বাধা ও মারপিটের অপরাধ তুলে মামলা দেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই জিয়াউর রহমানকে আটক করে ঠাকুরগাঁও কারাগাওে পাঠান। উপজেলা পরিষদে গিয়ে পিআইও’কে মারপিট করায় উপজেলাসহ দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ইউএনও খাদিজা বেগম ও ছাত্র অধিকার পরিষদের নেতা মামুনুর রশিদ মামুনের ছড়িয়ে পড়া কথোপকথন হুবুহু তুলে ধরা হলো। মামুন: ইউএনওকে সালাম দেন, তারপর বলেন, আমরা খুব বিপদের পড়ে গেছি এই যে আপনাকে এত অভিযোগ করতেছি তার বিরুদ্ধে আসলে কি করলেন তার বিরুদ্ধে কি কোন ব্যবস্থা নিবেন না ব্যবস্থা নেওয়ার কোন অপশনে নেয়।সে এমন একটা অশোভনীয়
ইউএনও:আপনারা একটু জেলা প্রশাসক স্যারকে জানান। স্যার ব্যবস্থা নিতে পারবে আমিও আপনারা যা বলেছেন তা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছে। মামুন: আসলে আমিও উনাকে ম্যাসেজটা দেখালাম আপনাকে আমিও উনাকে অব্যশ্য অভিযোগ করেছি। এর বাইরে কি কোন অপশন আছে, আপনার কাছে কি কোন অপশন নেয় আপনি একটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা? ইউএনও: আমার কাছে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো ছাড়া আর কোন অপশন নেয়,আজকে না দুই মাস আগে থেকে চেষ্টা করতেছি। আমার কথা কর্ণপাত করতেছে না। মামুন:আসলে আপা একটু টুরুলি বলি ধরেন আমি একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায় দিলাম তখন আপনিও তো আবার আমার বিরুদ্ধে মামলা দিবেন প্রশাসনিকভাবে। আমি চাইলেই সেখানে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটায়তে পারি। কিন্তু আমরা শান্তিতে থাকতে চাই। কিন্তু এই লোকতো কাউকেই শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না।
না সাংবাদিক,না রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, না সাধারণ নাগরিক। সবার সাথেই সে মিস বিহেভ করতেছে একের পর এক। ইউএনও: আমার মনে হয় আপনারা ডিসি স্যারের সাথে কথা বলেন,যে স্যার আমরা কি করবো। আমি একাধিকবার জানিয়েছি ডিসি স্যারকে। স্যাররা উপরে কথা বলেছে কিন্তু কেন কাজ হচ্ছে সেটা বলা মুশকিল। মামুন:আমার কাছে তথ্য রয়েছে যে উনি আসলে চাকরী করেছে একই জায়গায় উনি আসলে কালো টাকা দিয়ে প্রভাব তৈরী করেছে। ওই জায়গায় উনি মন্ত্রনালয় গেলে কালো টাকার বিস্তার করে উনি আবার চলে আসে। এই জায়গায় আমি রবিবার উনার অফিসে দেখা করবো এতে যদি কোন অপ্রীতিকর কোন ঘটনা ঘটে তো আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন। ইউএনও: আপনারা দেখেন শান্তিপুর্ণভাবে কতটা সমাধান করা যায়। কারণ ধরেন এটা তো সাথে মামলায় চলে যাবে। যেটা অলরেডি দেখতে পাচ্ছেন মামলার বিষয়। যেহেতু দেখতে পাচ্ছেন মামলার বিষয়গুলো।
মামুন: উনি মামলায় গেলেও আপনি যদি একটু চুপচাপ থাকেন তাহলে আমি উনাকে সোজা করার সক্ষমতা আমার আছে। যেহেতু আমরা ওই এলাকার সন্তান। এবং বিভিন্ন জায়গায় তাকে আমরা বাধা দিতে পারবো। কিন্তু আমি চাই না যে একটা লোক চাকরী করবে তাকে তো অনন্ত আমাদের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরাতো রাজনীতি করি, চুরি করি না। আমরা তার কাছে একটা বিষয় আবেদন করবো। তার কাছে যাবো কথোপকথন করবো। সে এটা মেনে নিতে পারছে না কেন? সে আসলে কি মানে, আমি নিজে থেকেও ডিপ্রেস তার বিষয়টা নিয়ে আমি ঢাকায় আছি আজকে যদি বাসায় থাকতাম তাহলে সোজা আমি তার কাছে চলে যেতাম আপা।যে দেখি সে কি করে। ইউএনও: ঠিক আছে আমি চুপি থাকবো বলে একটা মুচকি হাসি দেন। মামুন:আপনি শুধু প্রশাসনকে বলেইন যেন মামলা নিলেও সাধারণ মানে একটা তদন্ত বা প্রসেসের মধ্যে নেই। বাকিটা আমি দেখতেছি।
বলে ইউএনকে ধন্যবাদ দিয়ে ফোন রেখেদেন। গণঅধিকার পরিষদের সেতা মামুনুর রশিদ মামুন জানান, এর আগে সামাজিক মাধ্যমে সে যখন আমাকে দিয়ে মেসেজ করে। তখন আমি ইউএনও’র সাথে কথা বলেছিলাম। সেই সময় তিনি যা বলেছেন তাই আমি ফেইসবুকে দিয়েছি। ইউএনও’র বক্তব্যই প্রমাণ হয় পিআইও কথাটা খারাপ প্রকৃতির লোক।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খাদিজা বেগমের মুঠোফোনে এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।