নিহত আশিকুর রহমান উপজেলার কুমেদপুর ইউনিয়নের বগেরবাড়ী গ্রামের মামুনুর রশিদ সাজুর ছেলে। চার বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। তিনি স্ত্রী ও দুই বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তাঁর অকাল মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৩০ মে) দুপুরে তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আশিকুরের বড় ভাই রফিক হাসান ওরফে হেলেন মিয়ার সঙ্গে চাচা বকুল ও তাঁর ছেলে রানার বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রফিককে মারধর করা হলে খবর পেয়ে বাড়িতে খাবার খেতে থাকা আশিকুর দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান।
সেখানে তিনি বড় ভাইকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীদের আঘাতে গুরুতর আহত হন। এ সময় আরও কয়েকজন আহত হন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে আশিকুরের অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে মারা যান। এ ঘটনায় রফিক হাসান (হেলেন মিয়া), আতিক ও আফরিন নামের আরও তিনজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের মা সাদেকা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে কোনো ঝগড়া করতে যায়নি। সে শুধু তার ভাইকে বাঁচাতে গিয়েছিল। আমার ছেলেকে যারা হত্যা করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
আশিকুরের মৃত্যুর খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও প্রতিবেশীরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এ ঘটনায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।