


রংপুরের পীরগঞ্জের আলোচিত ট্রান্সফরমার চুরি ও কৃষক মফিজার রহমান হত্যা মামলার জড়িতদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ| এ ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল সদস্যসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে| তাঁদের কাছ থেকে চুরির কাজে ব্যবহৃত যানবাহন, বিভিন্ন সরঞ্জাম ও ট্রান্সফরমার থেকে খুলে নেওয়া চোরাই তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়েছে|
রোববার (২৪ মে) রংপুর জেলা পুলিশ সাংবাদিকদের জানান, ৭ মে উপজেলার বড় আলমপুর ইউনিয়নের উমরপুরে গভীর নলকুপের সেচ ঘর থেকে কৃষক মফিজার রহমানের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ| তিনি রাতে নিজেদের বিএডিসির সেচ ট্রান্সমিটার পাহারার দায়িত্বে ছিলেন| প্রতিদিনের মতো ৬ মে বুধবার রাতে মফিজার রহমান উমরপুর মাঠের সেচ ঘরে পাহারায় যান| ৭ মে বৃহস্পতিবার সকালে শহিদুল ইসলাম নামে এক কৃষক গরু নিয়ে মাঠে গেলে সেচ ঘরের দরজা খোলা ও ট্রান্সমিটার খুলে নেওয়া অবস্থায় দেখতে পান| পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মফিজার রহমানের পা বাঁধা রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন| ওই ঘটনায় নিহতের ভাই মতিয়ার রহমান পীরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা রুজু করেন|
পীরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও চুরি মামলাটি ছিল অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও রহস্যজনক ছিল| নিহত মফিজার রহমান (৪৬) ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বাধা দিতে গেলে তাঁকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করার পর জড়িতদের শনাক্ত করতে রংপুর জেলা পুলিশের ডিবি ও পীরগঞ্জ থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল মাঠে নামে|
রংপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এর সার্বিক সহযোগিতায় ২৩ মে থেকে ২৪ মে পর্যন্ত রংপুর, গাইবান্ধা, জয়পুরহাট ও বগুড়ার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হয়| অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়| গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—গাইবান্দার পলাশবাড়ির চকবালার মৃত নজমাল শেখের ছেলে খেজমতপুরের জামিরুল ইসলাম (৩২), বাঁশকাটার মৃত আজিজারের ছেলে নূরুল আমিন (৬৮), বেড়াডাঙ্গার মৃত গেল্লা সরদারের ছেলে আমিরুল ইসলাম সরদার (৫৫)|
গোবিন্দগঞ্জের পুরন্দুরের মৃত মজিবরের ছেলে সবদুল আকন্দ ওরফে শামিম (৩৪), সাদুল্লাপুরের কাবিলপুর সোনাতলার আজাহার আলীর ছেলে আনিছুর রহমান (৪০) জয়পুরহাটের কালাইয়ের আমলাপুকুরের তফিজার মুন্সির ছেলে আব্দুল জলিল (৩৮) ও বগুড়ার মোকামতলার আব্দুল ওয়াহাব ওরফে শফিকুল (৩৫)|
জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা মফিজার রহমানকে হত্যা করে ট্রান্সফরমার চুরির কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের| তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি নোয়া মাইক্রোবাস, একটি সিএনজি, ট্রান্সফরমার কাটার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি এবং তিনটি ট্রান্সফরমারের ভেতরে থাকা চোরাই তামার কয়েল উদ্ধার করা হয়েছে|
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক জানান, এটি একটি সংঘবদ্ধ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্র| দীর্ঘদিন ধরে তারা বিভিন্ন এলাকায় ট্রান্সফরমার চুরি করে আসছিল| চক্রটি ট্রান্সফরমার ভেঙে ভেতরের তামার কয়েল সংগ্রহ করে বিক্রি করত| মামলাটি ছিল ‘ব্লাইন্ড মার্ডার’| কোনো দৃশ্যমান সূত্র না থাকলেও প্রযুক্তি ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালিয়ে মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে| গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে| মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানান পুলিশ সুপার|
—