জানা গেছে, নাসিক প্লান্ট এন্ড পট লিমিটেড এর নার্সারি থেকে লাল তীর কোম্পানির পার্পলকিং জাতের চারা সরবরাহ করে জমিতে রোপন করেছে কৃষকরা। কিন্তু রোপনের পর গাছে ফল ধরা শুরু হলে পার্পলকিং এর জাতের পরিবর্তে তিন থেকে চার প্রকার জাত দেখা বেগুনের ফলন কম হওয়ায় কৃষকরা প্রতারিত হয়েছে। ফলে বেগুন চাষিরা লোকসানে আশঙ্কায় চরম দুচিন্তায় দিন পাড় করছেন।
সরেজমিন কুরুষাফেরুষা গ্রামের কৃষক আদম আলী ও শহিদুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান ও ব্রোজেন চন্দ্র রায়ের বেগুন ক্ষেতে গিয়ে দেখা গেছে, ক্ষেতের বেশীর ভাগ গাছে মড়ক লেগেছে। মড়ক লাগা গাছের পাতা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। কৃষক এ সব গাছ তুলে ক্ষেত থেকে ফেলে দিচ্ছেন। গাছের পাতায় হলুদ ও লালচে বর্ণ ধরার গত দুই তিন সপ্তাহ ধরে বেগুন মরে যাচ্ছে। যেগুলো বেগুন গাছ মরে নাই সেগুলোতে কোন ধরণের ফলন নেই। একই চিত্র দেখা গেছে উপজেলার শিমুলবাড়ী, ফুলবাড়ী, বড়ভিটা ও ভাঙ্গামোড় ইউনিয়নও।
কুরুষাফেরুষা গ্রামের কৃষক আজিমুল ইসলাম, মশিয়ার রহমান ও ব্রোজেন চন্দ্র রায় জানান, তারা প্রত্যেকেই এক বিঘা জমিতে বেগুনের চাষাবাদ করেছে। বড় বড় বেগুন গাছের ডগায় কোন ফল নেই, মড়ক ধরেছে। সম্পূর্ণ গাছের পাতা হলুদে হয়ে মরে যাচ্ছে। আমরা লাল তীর কোম্পানি /নাসিক নার্সারিতে বেগুনের চারা সংগ্রহ করে জমিতে রোপন করেছি। বেগুন ক্ষেত মরে যাচ্ছে তবুও ওই কোম্পানির দেখা মিলছে না। কৃষি কর্মকর্তা এসেছে তারাও বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছে। তারপরও বেগুনের মড়ক রক্ষা করতে পারছি না। এক জমিতে বেগুন ক্ষেতে এপর্যন্ত খরচ হয়েছে ২০ হাজারো অধিক। আমাদের মতো অনেক বেগুন চাষির বেগুন ক্ষেত এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
একই এলাকায় বেগুন চাষি আদম আলী জানান, দুই বিঘা জমিতে বেগুন চাষ করেছি। ইতিমধ্যে গাছে ফুল ও বেগুনের গাছ বড় হয়েছে। ইতো দিন পুরোদমে বেগুন বাজারে বিক্রি করতে পারতাম। বর্তমান বাজারে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ মন বিক্রি হচ্ছে। এই দুই বিঘা জমিতে ৫৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। মাত্র ৩০০ টাকা বেগুন বিক্রি করেছি।
তিনি আরো জানান, প্রথম থেকে ক্ষেতের বেগুন গাছ বেশ হৃষ্টপুষ্ট ছিল। গাছে ফুল ও ফল আসায় উৎপাদিত বেগুন থেকে আশানুরূপ লাভবান হবেন এমন আশা নিয়ে বুক বেঁধে ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ বেগুন ক্ষেতে মড়ক দেখা দেয় এবং গাছগুলো মরে যাচ্ছে। এ রোগ থেকে রক্ষা করতে ওষুধ স্প্রে করেও গাছ রক্ষা করা যাচ্ছে না। বড়ই দুচিন্তায় পড়েছেন তিনিসহ ওই এলাকার বেগুন চাষিরা। ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক ক্ষতি পুরণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ফিরোজ শাহ জানান, কুরুষাফেরুষা গ্রামে বেশ কয়েকজন কৃষকদের বেগুন ক্ষেত পরিদর্শন করে বেগুনের মড়কের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বেগুন ক্ষেত রক্ষার্থে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। বেশ কয়েক কৃষক জানান, এ বছর তারা নাসিক নার্সারি থেকে বেগুনের চারা সংগ্রহ করেছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা : নিলুফা ইয়াছিন জানান, খরিপ-২ মৌসুমে উপজেলা জুড়ে ১৫ হেক্টর জমিতে বেগুনের চাষাবাদ হয়েছে। কিছু কিছু এলাকায় বেগুন ক্ষেতে ইয়ালোমুজাইক বীজ বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বিষয়টি দেখার জন্য মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা খোঁজ খবর নিয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। সেই সাথে কৃষি কর্মকর্তাও সরেজমিন গিয়ে কৃষকদের সমস্যা দ্রুত সমাধানের জন্য পরিদর্শন করে চাষিদের পরামর্শ অব্যাহত রেখেছেন।