1. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
  2. [email protected] : Sokaler Bani : Iqbal Sumon
  3. [email protected] : Md Hozrot Ali : Md Hozrot Ali
জীবন যুদ্ধে ঘানি টানছেন ষাটোর্ধ্ব দম্পতি | দৈনিক সকালের বাণী
শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

জীবন যুদ্ধে ঘানি টানছেন ষাটোর্ধ্ব দম্পতি

কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) প্রতিনিধি
  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৩১ জন দেখেছেন

সংসার নামের জীবন যুদ্ধে ৩ যুগ ধরে গরু বা ঘোরার পরিবর্তে বুক দিয়ে তেলের ঘানি টেনে জীবন যাপন করছেন ষাটোর্ধ্ব মোস্তাকিন দম্পতি। নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি পাগলাটারী গ্রামের বাসিন্দা তারা। জানা যায ৩ যুগ ধরে নিজ বাড়িতেই তেলের ঘানি টেনে ৩ ছেলে ও ৪ কন্যার ভরণপোষণ চালিয়ে আসছেন ষাটোর্ধ্ব এই দম্পতি। গরু বা ঘোরা কেনার সামর্থ নেই বৃদ্ধ মোস্তাকিন (৭০) ও স্ত্রী ছকিনা (৬৫) দীর্ঘ সংসার জীবনে একমাত্র বাঁচার অবলম্বন তেলের ঘানির মাধ্যমে জীবনযাপন করায় গায়ের চামড়ায় ভাঁজ পড়েছে বাঁকা হয়ে গেছে মাঝা ও পিঠ।

লক্ষ্য করে দেখা গেছে চোখে মুখে আতঙ্ক ও হতাশার ছাপ। দারিদ্র্য এবং অবহেলা জর্জরিত এই মানুষটি বলেন আমার মাথা গোজার ঠাই এর জায়গাটুকু ছাড়া আর কোন ফসলের জমি নেই। গত ৪ বছর পূর্বে আমার এই কঠিন জীবন যাপনের কথা পত্রপত্রিকায় প্রকাশ পেলে নীলফামারীর সদরের এক দানবীর ব্যক্তি তার খামার থেকে আমাকে ১ টি গরু দান করেছিলেন ২ বছর লালন পালন করার পর একটি বাছুর ও জন্মেছিল আনন্দে আমার বুকটা ভরে উঠেছিল। কিন্তু কপালে আমার সুখ সয় নাই গাভীর দুধের বাটনে পচন ধরেছিল বেহাল অবস্থা দেখে বিক্রি করে দিয়েছি। আমার ৩ ছেলে ৪ কন্যা ১ম ছেলে হোটেল শ্রমিক ২য় ছেলে অসুস্থ দুই ঘাড়ে টিউমার ৩য় ছেলে প্রতিবন্ধী চোখে দেখেনা। ৪ কন্যার বিয়ে দিয়েছি তার মধ্যেও ৩য় কন্যা যৌতুকের দায়ে তার একটি সুত্র সন্তানসহ ৩ থেকে ৪ বছর ধরে আমার বাড়িতে।

স্ত্রী ছকিনা বলেন আমার এই বৃদ্ধ স্বামী জীবন বাঁচার তাগিদে প্রতিদিন সকালে এক অবর্ণনীয় ঘূর্ণায়মান জীবন যুদ্ধে নেমে পায়ে হেঁটে গ্রামে গ্রামে সরিষা সংগ্রহের কাজে বের হয়ে যান।সরিষা সংগ্রহ শেষান্তে বাড়িতে ফিরে বিরামহীন ভাবে তেলের ঘানি টানার কাজ করেন বিকাল ৩ টা পর্যন্ত ।এতে ৫ কেজি সরিষার দানা পিষে সোয়া লিটার তেল ও ৩ কেজির মতো খৈল বের করেন। এতে তার প্রতিদিন আয় আসে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। এতে করে খাওয়া তো দূরের কথা শরীরের ঘাম শুঁকেতে না শুকাতে তেল ও খৈল বিক্রির জন্য ছুটে যেতে হয় হাটবাজারে।স্থানীয় জিয়াউর রহমান বলেন, মোস্তাকিন তেলির খাওয়া পড়ার যেমন অভাব ঠিক তেমনি রাতে শোয়ার ঘরেরও অভাব স্ত্রী ছেলে-মেয়ে ও ছেলের বউ সহ যে ঘরে থাকে সেই ঘরের উপরে রোদ বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য পলিথিন দিয়ে বসবাস করছে।

প্রতিবেশী শরিকুল ইসলাম আরও জানান মোস্তাকিন বসতভিটার উঠানে জোড়াতালির টিনের ছাপড়ায় গাছের গুঁড়ি ও পাথর দিয়ে তৈরি করেছেন তেলের ঘানি। গরু বা ঘোড়া না থাকায় অভাবের কারণে গরু এবং ঘোড়া দিয়ে তেলের ঘানি টানার কাজ বৃদ্ধ মোস্তাকিম ও স্ত্রী ছকিনা বুক ও হাত দিয়ে টেনে কমর ও পিঠে ভাজ ফেলাইছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের আধুনিকতার ছোঁয়াকে হার মানিয়ে এখনো আদিম সভ্যতার আদলে দারিদ্র অবহেলা জর্জরিত এই ষাটোর্ধ্ব দম্পতি কঠিন এক বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন সহানুভূতি ও মানবিক সহযোগিতা পেলে হয়তো এই বৃদ্ধ বয়সে জীবন সায়াহ্নে একটু স্বস্তিতে পরিবার নিয়ে বাঁচতে পারবে। অত্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজাউদৌল্লা লিপটন বলেন উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করা হবে। অভাবগ্রস্ত মোস্তাকিন দম্পত্তির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রীতম সাহা বলেন, আমি শুনেছি পরিবারটির ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়ে সহযোগিতা করা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category
© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক সকালের বাণী
Theme Designed BY Kh Raad ( Frilix Group )