


আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে প্রচারণা জমে উঠেছে। রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, প্রার্থীদের তৎপরতা আর মাঠপর্যায়ের আলোচনার মধ্যে এবার সামনে এসেছেন শাহ আলম বাসার নামে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এলাকায় আগে থেকেই সামাজিক ও সাংগঠনিক কাজের কারণে তিনি পরিচিত মুখ। এবার স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) বিকেলে পীরগাছা প্রেস ক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে জানিয়ে দেন নিজের অবস্থান, প্রতিশ্রুতি আর মূল্যবোধ।
মতবিনিময়ে শাহ আলম বাসার বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হলেও উন্নয়ন আটকে দেওয়ার সুযোগ নেই। তার বক্তব্য, উন্নয়ন নির্ভর করে প্রতিনিধির আন্তরিকতা, কর্মক্ষমতা আর মানুষের সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। তিনি মনে করেন, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি চাইলে স্থানীয় উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।
তিনি বলেন, জীবনে কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করিনি। বরং যতটুকু পেরেছি মানুষের পাশে থেকেছি। পীরগাছা-কাউনিয়ার ভোটাররা যদি দলীয় সীমার বাইরে গিয়ে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমাকে নির্বাচিত করেন, তাহলে এলাকার উন্নয়ন করতে পারবো বলে বিশ্বাস করি।
নির্বাচিত হলে কী করবেন—এ প্রশ্নে বাসার বলেন, দুই উপজেলার যে সব এলাকায় স্বাধীনতার পরও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি, সেগুলোর তালিকা তৈরি করে সরেজমিনে ঘুরে দেখবো। অবকাঠামো, যোগাযোগব্যবস্থা, জনসেবা—সব ক্ষেত্রেই অগ্রাধিকার ঠিক করবো মাঠের বাস্তবতার ভিত্তিতে।
এর পাশাপাশি তিনি এমপিওভুক্ত না হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রসঙ্গও তোলেন। বহু শিক্ষক এখনো বিনা বেতনে জীবন চালাচ্ছেন—এ অবস্থাকে তিনি অমানবিক বলে বর্ণনা করেন। নির্বাচিত হলে দুই উপজেলার দীর্ঘদিনের অপেক্ষমাণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে একযোগে এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান।
শাহ আলম বাসার উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের বামন সরদার গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. ফজর আলীর ছেলে। কাউনিয়া উপজেলার সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রওশনারা বেগম তার বড় বোন। গ্রামীণ ব্যাংক এসোসিয়েশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটিতে দায়িত্ব পালন করেছেন। অন্নদানগর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৯৮৯ সালের এসএসসি ব্যাচের শিক্ষার্থী বাসার। বর্তমানে তিনি রংপুর নগরীতে জুয়েলারী ব্যবসা করছেন।
পীরগাছা প্রেস ক্লাবের সভাপতি রবিউল আলম বিপ্লবের সভাপতিত্বে এতে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুছ সরকার, সহ-সভাপতি ফজলুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একরামুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক হাবিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন সুজন। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সাংবাদিক রাজু আহমেদ, শামছুজ্জোহা আলমগীর ও শাহিন মিয়া প্রমুখ।